সিলেট নগরের জনবহুল লালদিঘির পাড় হকার্স মার্কেটে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ও ভেজাল পণ্য উৎপাদনের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন। এ সময় শাহ জামাল উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান সূত্রে জানা যায়, হকার্স মার্কেটের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় অত্যন্ত গোপনে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ও ভেজাল পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ‘গণচিনি’ নামক একটি ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করে এসব পণ্য উৎপাদন করা হতো। মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষের মাঝে যৌন উদ্দীপক হিসেবে এসব চটকদার ও ক্ষতিকর পণ্য বিক্রি করত চক্রটি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মিশু জানান, এ ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে। এর ব্যবহারে ইতোমধ্যে মৃত্যুর ঘটনাও রেকর্ড হয়েছে। অভিযানকালে পণ্যের প্যাকেটের গায়ে ‘পাবনা, বাংলাদেশ’ লেখা থাকলেও এর প্রকৃত উৎপাদন উৎস বা এর পেছনে জড়িত মূল চক্রের বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি আটক ব্যবসায়ীরা।
ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। আদালত অবৈধ কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত থাকায় শাহ জামাল উদ্দিনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়া অনুমোদনহীন শিশুখাদ্য বিক্রি এবং স্বনামধন্য বিভিন্ন কোম্পানির ট্রেডমার্ক ও প্যাকেজিং নকল করে মানহীন পণ্য বাজারজাত করার অপরাধে অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানকে আরও ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জয়নাল আবেদীন, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং সিলেট মহানগর পুলিশের একটি বিশেষ দল।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মিশু বলেন, ‘বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি আমরা নিয়মিত সভা-সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু এরপরেও অতি মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জেনেশুনে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’
আরও পড়ুন:







