ভোলার ইলিশায় নদীপথে সরকারি সার পাচারের সন্দেহে ২৯৮ বস্তা সার আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে সারগুলো জব্দ করে একটি গোডাউন সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকালে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর ইলিশা গ্রামের দারগার খাল সংলগ্ন রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে জেলার বাইরে পাচার করা হচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সারগুলো বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে পাঠানোর জন্য নেয়া হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার নদীপথে ভোলা থেকে মাদারীপুরে সার নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা একটি সারবোঝাই ট্রলার ও একটি নসিমন থেকে ২৯৮ বস্তা সার আটক করেন। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি করে টিএসপি ও ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার ছিল।
ট্রলারের মাঝি শহীদ জানান, চর ইলিশা গ্রামের রফিক মাঝি ও মন্নান বিএডিসির সার ও বীজ ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্স থেকে সারগুলো কিনেছেন। ভোলার বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে পাঠানোর জন্য তাঁর মাধ্যমে সেগুলো নেয়া হচ্ছিল। জেলার বাইরে পাচারের উদ্দেশ্যে সার নেয়া হচ্ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
কৃষক রফিকও দাবি করেন, তিনি সারগুলো কিনে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার গাগরিয়া চরে পাঠানোর জন্য নৌকায় তুলছিলেন। স্থানীয়রা বিষয়টি না বুঝে সারগুলো আটক করেছেন। তবে সার কেনার কোনো মূল্য পরিশোধের রসিদ তিনি দেখাতে পারেননি। ক্রয় রশিদ এর বিষয়ে রফিক মাঝি বলেন মিজান ট্রেডার্স থেকে সার কিনলে কোন রশিদ দেয় না,আমি ১৮০ বস্তুা কিনেছি ৮০ বস্তুা দিয়েছে আরো ১০০ বস্তুা পাওনা আছি।
স্কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফরাজি তাঁর প্রশ্ন, ৮০ বস্তা তার হলে বাকি ২১৮ বস্তা সার কোথা থেকে এসেছে? এবং এ সার এর ক্রেতা বা বিক্রেতা কে?
তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি না করে অধিক মুনাফার আশায় জেলার বাইরে নেয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান তিনি। সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ ডিলাররা কৃষকদের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সার উত্তোলন করেন। পরে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেগুলো জেলার বাইরে নিয়ে যান। এতে স্থানীয় কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে সারের সংকট না থাকলেও ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফা করছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএডিসির সার ও বীজ ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, ডিলার পয়েন্টের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তবে আমরা ২৯৮ বস্তা সার আটক করে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি ঘরে সিলগালা করে রেখেছি। তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে সাধারণ কৃষকের অভিযোগ, ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে দুই দিন পরপর সারের দাম বাড়ছে। ফলে বেশি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে না পেরে ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
সার তেলেসমাতিতে দুশ্চিন্তা কবে নাগাদ শেষ হবে এটা দেখার অপেক্ষা এখন ভোলার প্রান্তীক কৃষকদের।
আরও পড়ুন:







