ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি উত্তরায় জলকামান ও প্রিজনভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের সরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। একই দাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তরার বিভিন্ন এলাকাতেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
মিরপুরে সাত কারখানায় কাজ চালু
মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান, তাঁর থানা এলাকায় থাকা আটটি পোশাক কারখানার মধ্যে সাতটি চালু ছিল। একটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। পরে তাঁদের বুঝিয়ে কাজে ফেরানো হলে বুধবার সকাল থেকে তাঁরাও কাজ শুরু করেন।
তিনি আরও জানান, মিরপুরে শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে বুধবার সকালে মিরপুর-১১ নম্বরের পূরবী সিনেমা হলের গলিতে কয়েকটি পোশাক কারখানার সামনে শ্রমিকেরা জড়ো হন। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উত্তরায় জলকামান ও প্রিজনভ্যান প্রস্তুত
শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তরায়ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাজলক্ষ্মী থেকে বিমানবন্দর এলাকা পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে জলকামান ও প্রিজনভ্যান।
মিরপুরে সংঘর্ষ, আহত শ্রমিকের মৃত্যু
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত ১ নভেম্বর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। ওই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
সোমবার ও মঙ্গলবারও মিরপুরে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। একই দাবিতে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জেও আন্দোলন করছেন তাঁরা। এসব আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং কারখানা বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের সময় গাজীপুরে আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে মারা গেছেন।
আরও পড়ুন:







