নীলফামারীর ডিমলায় যৌতুকের অংশ হিসেবে দেয়া জমি দখল ও ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মিনা বেগম নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিজের কিশোর ছেলেকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই নারী।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে ডিমলা থানা পুলিশ।
নিহত মিনা বেগম উত্তর সোনাখুলি এলাকার মো. জামিনুর রহমানের স্ত্রী। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিরা হলেন উত্তর সোনাখুলি গুচ্ছগ্রামের আমেতুল্লাহ মুন্সির ছেলে সামছুল হক, মো. আয়নাল হকের ছেলে সবুজ, আয়নাল হকের স্ত্রী মোছা. ছবিরন এবং আয়নাল হকের মেয়ে রাহেনা বেগম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মিনা বেগমের ছেলে মিলন -এর সঙ্গে আয়নাল হকের মেয়ে মোছা. হামিদা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কাবিন ও যৌতুকের অংশ হিসেবে আয়নাল হক একটি বন্ধকি জমি চাষাবাদের জন্য জামাই মিলনকে দেন।
তবে জমিটির দখল, চাষাবাদ ও ফসল নিয়ে পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে কয়েক দফা উত্তেজনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সিদ্ধান্ত হয়, বিরোধপূর্ণ জমির চলতি ধান কাটা শেষ হওয়ার পর উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি স্থায়ীভাবে মীমাংসা করা হবে।
ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের মঙ্গলবার বিকেলে ওই জমি থেকে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাটা ধানগাছ (ছুট ধানগাছ) সংগ্রহ করতে যায় মিলনের ছোট ভাই মস্তো মিয়া।
এ সময় আয়নাল হক, তাঁর ছেলে সবুজসহ কয়েকজন মস্তোর ওপর হামলা করে তাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছোট ছেলের চিৎকার শুনে তাকে রক্ষা করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান মিনা বেগম। সেখানে পৌঁছানোর পর হামলাকারীরা মিনা বেগমের ওপরও চড়াও হয়। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হলে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মরদেহ পড়ে থাকলেও চলছিল ধান কাটা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো. ছামিদুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা জানান, মিনা বেগম মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ধান কাটতে থাকে। ওই সময় আটক চারজনসহ আরও কয়েকজন সেখানে ছিলেন।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ধান কাটারত অবস্থায় চারজনকে আটক করেন। খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যায়।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে যৌতুক হিসেবে দেওয়া জমির দখল ও ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন:







