সুন্দরবনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাত সাত্তার বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।
মঙ্গলবার বিকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার কয়রা থানাধীন সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকী। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সাত্তার বাহিনীর সদস্যরা জিম্মি জেলেদের ফেলে বনের গভীরে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন- জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)। তারা সবাই খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা।
অন্যদিকে, সকাল ১১টার দিকে খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের কুমড়োখালী খাল সংলগ্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন নলিয়ান। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গোপনে লুকিয়ে রাখা চারটি একনলা বন্দুক, একটি ০.২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫২ রাউন্ড ০.২২ ক্যালিবার বন্দুকের গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন:







