মঙ্গলবার

৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভে আবারো উত্তপ্ত আশুলিয়া; ৫০ পুলিশ আহত

মাসুদ রানা, সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪০

আপডেট: ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪১

শেয়ার

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভে আবারো উত্তপ্ত আশুলিয়া; ৫০ পুলিশ আহত
ছবি: বাংলা এডিশন

আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশের অন্তত ৫০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এলাকার শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে শিল্পাঞ্চলের সিংহভাগ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

শিল্প পুলিশের মতে, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে শিল্পাঞ্চল অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরের দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে দেওয়ান পাম্পের পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এসপি বলেন, “আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, সাধারণ শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে চান। তারা শিল্প পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে চান। কিন্তু বহিরাগত কিছু লোক এবং একটি কুচক্রী মহলের উসকানিতে একটি পক্ষ প্রতিদিন সকালে কারখানায় ঢোকা শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা করছে। তারা কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।”

শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে এসপি আরও জানান, শ্রমিকেরা যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তবে সুরক্ষার স্বার্থে কিছু কারখানার মালিক ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, তা ভিত্তিহীন।

শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “আমরা শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ নই। এক মালিক চার মাসের বেতন না দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন, আমরা তাকে আটক করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করেছি। সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নেও আমরা তাদের সঙ্গে আছি। তবে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল মারলে আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করি।”

কারখানা বন্ধের বিষয়ে এসপি জানান, শিল্পাঞ্চল পুলিশের আওতাধীন প্রায় আট শতাধিক কারখানার মধ্যে শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরাবো ছাড়া সাভারের অন্যান্য এলাকার অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। দুপুরের পর অনেক মালিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেয়ে কারখানা চালুর আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।

সংঘর্ষে আহতদের বিষয়ে এসপি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার ২০ জন এবং আজ এক পুলিশ সদস্য মাথায় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ায় তার মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। সোমবার হামলার ঘটনায় দুজনকে এবং আজ প্রত্যক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে একজনকে আটক করে আশুলিয়া থানায় দেয়া হয়েছে।

ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এসপি বলেন, মজুরি বোর্ড এ বিষয়ে কাজ করছে এবং দ্রুতই নতুন মজুরি ঘোষিত হবে। এই অবস্থায় সড়ক অবরোধ ও বিশৃঙ্খলা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেয়ার ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়।

এছাড়াও ডিপিজেড এলাকার সকল পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।