মঙ্গলবার

৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

আর্থিক সংকটে নোয়াপাড়া চা বাগান, মজুরি না পেয়ে হতাশ শ্রমিকরা

শেখ বেলাল,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৫:০৪

শেয়ার

আর্থিক সংকটে নোয়াপাড়া চা বাগান, মজুরি না পেয়ে হতাশ শ্রমিকরা
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে আর্থিক সংকট ও অব্যবস্থাপনার প্রভাব ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। এরই মধ্যে সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে দিনভর কাজ শেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন শত শত শ্রমিক। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

দেশের অন্যতম পরিপাটি চা বাগান হিসেবে পরিচিত নোয়াপাড়া চা বাগানে কয়েক বছর ধরেই নানা সমস্যা চলছে। বাগানটির অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সংকটের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রায়।

শ্রমিকদের ভাষ্য, গত সোমবার ছিল তাদের সাপ্তাহিক মজুরি পাওয়ার নির্ধারিত দিন। নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহের উপার্জিত মজুরি হাতে পাওয়ার আশায় তারা দিনভর বাগানে কাজ করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কর্তৃপক্ষ মজুরি পরিশোধ করতে না পারায় হতাশ হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয় তাদের। কবে নাগাদ পাওনা টাকা পাওয়া যাবে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

সাবেক মন্ত্রী মুর্শেদ খানের মালিকানাধীন এ চা বাগান বর্তমানে কঠিন আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা। তাদের অভিযোগ, বাগান কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মজুরি পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বাগানের শ্রমিক খেলু নায়েক বলেন, ‘বাগানের অবস্থা ভালো নয়। দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। মালিকপক্ষ নিয়মিত শ্রমিকদের টাকা দিতে পারছে না। মজুরি না পেয়ে সবাই বাড়ি ফিরে গেছেন। সপ্তাহ শেষে মজুরি পেলে তা দিয়ে চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে সংসার চালাই। এখন সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।’

চা বাগানের শ্রমিকদের অধিকাংশই সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাদের উপার্জন দিয়েই পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করতে হয়। এমনিতেই স্বল্প মজুরিতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। এর মধ্যে মজুরি অনিয়মিত হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বাগানে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, কবে নাগাদ শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট আশ্বাস দিতে পারেনি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে বাগানের ম্যানেজার সোহাগ মাহমুদ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দিনভর পরিশ্রমের পরও প্রাপ্য মজুরি না পাওয়ায় নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দ্রুত বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং নিয়মিত মজুরি নিশ্চিত না হলে তাদের জীবনযাত্রার সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।