মঙ্গলবার

৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

মিরপুর-১১-তে ফের শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০১

শেয়ার

মিরপুর-১১-তে ফের শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরে ফের সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে তারা সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে।

শ্রমিক আন্দোলনের কারণে মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রয়েছে।

শ্রমিক অসন্তোষে ৬৭৯ কারখানা বন্ধ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনের জেরে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা এবং শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বের হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানী অঞ্চলের ৬৭৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ না করেই কারখানা থেকে বাসায় ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।

সোমবার বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট দুই হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে এক হাজার ৪৫৫টি খোলা ছিল। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৬৭৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল।

কোন শিল্পাঞ্চলে কত কারখানা বন্ধ

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যান। এতে কাজ বন্ধ রেখে চলে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৮৪০ জন।

গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি বন্ধ ছিল। সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টির শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখেন। এসব কারখানার শ্রমিকের সংখ্যা সাত লাখ ৪৩ হাজার।

নারায়ণগঞ্জের ১৯৯টি কারখানার মধ্যে ৯টি থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যান। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ৩৪০টি কারখানায় কোনো শ্রমিক অসন্তোষ বা কাজ বন্ধের ঘটনা ঘটেনি।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।