প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ কেন নিজেদের জেলার গ্যাসসম্পদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন এমন প্রশ্ন তুলে জেলার গ্যাস সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা কবির আহমেদ ভূঞা। তিনি তিতাস ও সালদা গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন গ্যাস অনুসন্ধান এবং জেলার ৯টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে গ্যাস বিতরণ সম্প্রসারণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি এসব দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কবির আহমেদ ভূঞা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ জেলা। এ জেলার মাটির নিচে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ তিতাস গ্যাসক্ষেত্র। এ ছাড়া কসবা উপজেলায় রয়েছে সালদা নদী গ্যাসক্ষেত্র। পেট্রোবাংলার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকেই দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটির নিচের প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অথচ যে জেলার গ্যাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে ভূমিকা রাখছে, সেই জেলার সাধারণ মানুষই এখনো পর্যাপ্ত গ্যাস সুবিধা পাচ্ছেন না। বিষয়টি অত্যন্ত পরিতাপের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনসংখ্যা ৩৩ লাখের বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলায় ৯টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ১০১টি ইউনিয়ন রয়েছে। এত বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তাঁর মতে, দেশের গ্যাসের চাহিদা ও দেশীয় উৎপাদনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এ কারণে গ্যাস আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থেই দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সর্বোচ্চ সম্ভাবনা কাজে লাগানো প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন, পুরোনো কূপ সংস্কার এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কসবার সালদা গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং তারাপুর ও কাশিরামপুরসহ সম্ভাবনাময় এলাকায় বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানোর দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে কবির আহমেদ ভূঞা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পূর্ণাঙ্গ সরকারি জরিপ পরিচালনা করতে হবে। জেলার ৯টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে গ্যাস বিতরণ সম্প্রসারণে বাস্তবসম্মত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিতাস ও সালদা গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি তারাপুর, কাশিরামপুরসহ সম্ভাবনাময় এলাকায় ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জেলার শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জ্বালানি সুবিধাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এ দাবি অন্য কোনো জেলার মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ন্যায্য উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সুষম উন্নয়নের দাবি। জাতীয় সম্পদের ওপর স্থানীয় মানুষের একচ্ছত্র মালিকানা নয়, বরং সম্পদের সুষম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদসমৃদ্ধ এলাকার মানুষও যেন উন্নয়নের ন্যায্য সুফল পান, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।
জেলার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ দাবি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একার নয়; এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি। তাই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুক্তি, তথ্য, আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে দাবিটি সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে।
কবির আহমেদ ভূঞার প্রত্যাশা, পরিকল্পিত জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি আধুনিক, শিল্পসমৃদ্ধ, কর্মসংস্থানমুখী ও আদর্শ মডেল জেলা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, “আমাদের জোরালো দাবি তিতাস ও সালদার গ্যাসসম্পদের উন্নয়ন হোক, নতুন গ্যাস অনুসন্ধান হোক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের জন্য গ্যাস সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর ও সময়বদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণ করুক।”
সবশেষে ৩৩ লাখেরও বেশি ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার উন্নয়ন মানুষের অধিকার, আর সেই উন্নয়নের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সবার দায়িত্ব।
আরও পড়ুন:







