সোমবার

২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮ কার্তিক, ১৪৩৩

নেত্রকোনায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ: বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই নিহত

মোঃ আরিফুল ইসলাম, নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৩

শেয়ার

নেত্রকোনায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ: বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই নিহত
ছবি: বাংলা এডিশন

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই সাইকুল ইসলাম (৩৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাইকুলের স্ত্রী ও মেয়ে আহত হয়েছেন।

সোমবার ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাইকুল। এরআগে গতকাল রবিবার বিকালে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সাইকুল ইসলাম চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। অভিযুক্ত বড় ভাইয়ের নাম সাইদুর রহমান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাইকুলদের ছয় ভাইয়ের মধ্যে তিনিই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। অন্যদের মধ্যে তিনজন ঢাকা, একজন প্রবাসে ও অপরজন বারহাট্টা শহরে থাকেন। কয়েকদিন আগে সাইদুর রহমান স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ঢাকা থেকে কাজের ফাঁকে বাড়িতে আসেন। এসে নিজের বাড়ির সীমানা নির্ধারণ ও দেয়াল তোলার চেষ্টা করছিলেন। এসব নিয়ে ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে সাইদুর তার স্ত্রী ও ছেলেসহ সাইকুলের ওপর হামলা চালায়। পিটিয়ে সাইকুলকে গুরুতর আহত করা হয়। মাথায় লাঠির একাধিক আঘাত লেগে গুরুতর আহত সাইকুল। এসময় বাধা দিতে এলে ও তার স্ত্রী -মেয়েকে গুরুতর আহত করেন সাইদুর।

এসময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে মমেক হাসাপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে সাইকুলের মৃত্যু হয়। তবে তার স্ত্রী ও ১৫ বছর বয়সী মেয়ের অবস্থা ভালোর দিকে বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন অভিযুক্ত সাইদুর রহমান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসিম তালুদার বলেন, খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাদের ছয় ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র সাইকুলই বাড়িতে থাকে এবং কৃষি কাজ করে। বাড়ির সীমানা নিয়ে সাইদুর ও সাইকুলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাইকুল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে মমেক হাসাপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। আজ ভোরে সাইকুল মারা গেছেন। এটা দুঃখজনক। সামান্য একটু সীমানার জায়গা নিয়ে মারামারি করে একটা জীবন চলে গেল।

ওসি চম্পক দাম বলেন, সাইকুলের লাশ মমেকে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের এলাকায় নিয়ে আসবে।

এ ঘটনায় আজ দুপুরে নিহত সাইকুলের স্ত্রী বাদী হয়ে সাইদুর, তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।