সোমবার

২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮ কার্তিক, ১৪৩৩

মানিকগঞ্জে বিবিএ ছাত্র রিদোয়ান অপহরণের ৯ দিন পার, রাজপথে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:২০

শেয়ার

মানিকগঞ্জে বিবিএ ছাত্র রিদোয়ান অপহরণের ৯ দিন পার, রাজপথে মানববন্ধন
ছবি: বাংলা এডিশন

অপহরণের দীর্ঘ নয় দিন পেরিয়ে গেলেও বিবিএ পড়ুয়া কলেজছাত্র রিদোয়ান আনসারীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করতে না পারায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে মানিকগঞ্জের সাধারণ মানুষ। প্রিয় সন্তানকে ফিরে পেতে রাজপথে দাঁড়িয়ে রিদয়নের মায়ের বুকফাটা কান্না আর স্বজনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকা।

সোমবার দুপুরে রিদয়নের স্বজন, এলাকাবাসী ও সহপাঠীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে চারপাশ এক মর্মান্তিক দৃশ্যে পরিণত হয়।

মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কলেজছাত্র রিদোয়ানকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা না হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু,বুড়ো অব সোশ্যাল ওয়াজের প্রেসিডেন্ট নুর ইসলাম সত্তার,এনপিআই ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট্রির অধিকারী ইঞ্জিনিয়ার ড.মোঃ ফারুক হোসেন, চাচা আব্দুল হান্নান আনসারীসহ এলাকার শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। বক্তারা অবিলম্বে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে রিদয়নকে উদ্ধারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে রিদয়ন আনসারী পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর ঢাকার নিউ ইস্কাটন এলাকায় বসবাস করতেন। বিবিএ পড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সুন্দর স্বপ্ন আজ অপহরণকারীদের নির্মম জিম্মিদশার অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।

পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন সফিপুর এলাকায় বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন রিদোয়ান। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। এর পর থেকেই তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনেরা রাতভর হাসপাতাল ও সম্ভাব্য সমস্ত স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

ঘটনার পরদিন ২৫ অক্টোবর ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে শাহরিয়ারের মোবাইলে একটি কল আসে। অপহরণকারীরা রিদোয়ানকে জিম্মি করার কথা জানিয়ে প্রমাণস্বরূপ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর সঙ্গে স্বজনদের কথা বলিয়ে দেয়। এ সময় রিদোয়ানকে জীবিত ফেরত পাওয়ার শর্ত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। জীবন বাঁচাতে দিশেহারা স্বজনেরা বাধ্য হয়ে অপহরণকারীদের দেওয়া বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বরে দফায় দফায় মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু অপরাধীরা টাকা পাওয়ার পরও তাঁকে মুক্তি না দিয়ে উল্টো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ গত ২৫ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও অপহৃতকে উদ্ধারে র‌্যাব-৩ (খিলগাঁও ক্যাম্প)-এর কোম্পানি কমান্ডার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়।

তবে ঘটনার নয় দিন পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রিদোয়ানকে উদ্ধার করতে না পারায় আজ এই তীব্র ক্ষোভ ও মানববন্ধনের সৃষ্টি হয়।