রবিবার

১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

শেরপুরে অটোচালক আসাদুল হত্যা, গ্রেপ্তার নানি-নাতি

আবু জাহের, শেরপুর বগুড়া

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৪

শেয়ার

শেরপুরে অটোচালক আসাদুল হত্যা, গ্রেপ্তার নানি-নাতি
ছবি সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আসাদুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নানি ও নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা থেকে আসাদুলকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাবতলী উপজেলার সানচক মরিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রিয়াদ হোসেন (২১) এবং শেরপুর উপজেলার রণবীরবালা এলাকার মৃত ফরিদ প্রামাণিকের স্ত্রী রেহনা বেগম (৬০)। রেহনা বেগম সম্পর্কে রিয়াদের নানি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন রিয়াদ। পরিকল্পনা অনুযায়ী অটোরিকশাচালক আসাদুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে আসাদুল রিয়াদের কাছে মাদক সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে আসাদুল নিজেই ইয়াবা সংগ্রহ করে নির্জন স্থানে সেবনের প্রস্তাব দেন।

এরপর রিয়াদ কৌশলে আসাদুলকে শেরপুর ঘাটপার হয়ে রণবীরবালা এলাকায় তার নানির বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুজন ইয়াবা সেবন করেন। এ সময় ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত নতুন টাকার নোটের বিনিময় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আসাদুল কলম দিয়ে রিয়াদকে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াদ ঘরে থাকা একটি ছুরি দিয়ে আসাদুলের গলায় আঘাত করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে আরও আঘাত করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

নানির সহযোগিতায় নদীতে ফেলা হয় হত্যার আলামত

পুলিশের তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডের পর রাত আনুমানিক ১টার দিকে রিয়াদ তার নানি রেহনা বেগমের সহযোগিতায় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিসহ অন্যান্য আলামত পার্শ্ববর্তী করতোয়া নদীতে ফেলে দেন। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অটোরিকশাটি ছিনতাই করে এর ব্যাটারি ও অটোরিকশা বিক্রি করে দেন।

এর তিন দিন পর, গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে উপজেলার রণবীরবালা এলাকার করতোয়া নদী থেকে আসাদুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে পুলিশ। রবিবার ভোররাতে তাদের আটক করা হয়। পরে দুপুরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, রবিবার ভোররাতে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে দুপুরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।



আরও পড়ুন: