রবিবার

১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

শেরপুরে ড্রামে উদ্ধার নারীর পরিচয় শনাক্ত, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন; গ্রেপ্তার চার

জান্নাতুল বাকী, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:২১

শেয়ার

শেরপুরে ড্রামে উদ্ধার নারীর পরিচয় শনাক্ত, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন; গ্রেপ্তার চার
ছবি: বাংলা এডিশন

শেরপুরের শ্রীবরদীতে প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অনৈতিক কাজের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। তিনি এরশাদনগরের শাকিল মিয়ার মেয়ে। গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন তিনি।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া সেতুর নিচ থেকে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে রাখা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পিবিআই শেরপুর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর ঝিনুক আক্তারকে ঢাকায় এনে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। কাজ শেষে তাকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেয়া হলে তিনি আরও টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে বটি দিয়ে আঘাত করার পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় নিয়ে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. নূর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪), মো. সজল (৪৪), মো. নূর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা (৪৪)। তাদের মধ্যে নূর ইসলামকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য তিনজনকে রাজধানীর উত্তরখান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নূর ইসলাম ওরফে বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী আইনি কার্যক্রম ও তদন্ত চলমান রয়েছে।



আরও পড়ুন: