নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নিখোঁজের দুই দিন পর ধানক্ষেতের আইল থেকে মেয়ে শিশুর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করায় বাদীকে হত্যার হুমকীর অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার সকাল ১১ টায় জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা মো. আর্শাদ মিয়া ও মা ইয়াসমিন আক্তার এই অভিযোগ করে।
নিহত শিশুটির নাম জান্নাত আক্তার। সে উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের হুগলি গ্রামের আর্শাদ মিয়ার মেয়ে।
হুমকির ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর কলমাকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে নিহত শিশুর বাবা মো.আর্শাদ মিয়া। হুমকির পর থেকে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও জানান আর্শাদ মিয়া।
নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে সোমবার বিকেলে জান্নাত আক্তার বাড়ির উঠানেই অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। সেখান থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। তার পরনে ছিল লাল রঙের জামা, গলায় গামছা। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং, থানায় সাধারণ ডায়েরি করাসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না শিশুটিকে।
নিখোঁজের পর ৬ মে বুধবার সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি আর্শাদ মিয়ার বাড়ির পেছনে প্রায় ৩০০ গজ দূরে ধানক্ষেতের আইলে শিশুর খণ্ডিত লাশ দেখতে পান। পরে পরিবারের লোকজন লাশটি জান্নাতের বলে শনাক্ত করে। খবর পেয়ে পুলিশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটির দেহ ও একটি পা উদ্ধার করে। ওইদিন সকাল ১০টার দিকে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুটির ভাই হৃদয় মিয়া বলেন, আমার বোনকে অপহরণ করে দুইদিন পর হত্যা করেছে। এখন আসামীরা আমার বাবা, মা এবং আমাকে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা খুবই আতংকে আছি। আমরা ঘটনার বিচার চাই। আমার বোনকে হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
শিশুটির স্বজন মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘কীভাবে এমন হলো আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। শিশু বাচ্চাটির শুধু ডান পায়ের নিচের অংশ ও মাথার অংশটুকু গামছা প্যাঁচানো ছিল। আর কিছু ছিল না। আমার মামাতো বোন ছোট শিশু তার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল বলে জানা নেই। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
শিশুটির মা ইয়াসমিন আক্তার কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ বাচ্ছাকে হত্যা করেছে। মামলা করায় এখন আমার স্বামী সন্তানকেও হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা নিরাপত্তা চাই। আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।’
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আসামী কয়েকজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তারা জামিনে এসেছেন বলে শুনেছি। মামলার বাদীকে হুমকির ঘটনায় জিডি হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শিশুটির বাবা মো.আর্শাদ মিয়া, মা ইয়াসমিন আক্তার, ভাই হৃদয় মিয়া, স্বজন মিজানুর রহমান, ইমরান হোসেন ও মাহবুব তালুকদার প্রমুখ।
আরও পড়ুন:







