রবিবার

১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি, তিন পুলিশ সদস্যের শাস্তির সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:৩৫

শেয়ার

বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানের  সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি, তিন পুলিশ সদস্যের শাস্তির সুপারিশ
ছবি: বাংলা এডিশন

চট্টগ্রামে অনলাইন জুয়ার মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দুই যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ শরীফুল আলম চৌধুরী সুজন এবং দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)-এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলা এডিশনে এসংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পুলিশ সদর দপ্তর ও সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে শুরু হয় পৃথক দুটি তদন্ত। সিএমপির ডিসি (পিওএম) মোহাম্মদ বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে গত শনিবার সিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এর আগে গত মঙ্গলবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনা অনুযায়ী আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিসি (পিওএম) মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত এসি শরীফুল এবং দুই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, দুই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে সিএমপি থেকেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অভিযুক্ত এসি শরীফুলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তদন্ত প্রতিবেদনটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রকাশের পর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ১০ সেপ্টেম্বর এসি শরীফুলকে ‘ল’ফুল ইন্টারসেপশন সেল’ (এলআইসি) থেকে সরিয়ে সিএমপি কমিশনার কার্যালয়ে এবং দুই এএসআইকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

ভুক্তভোগী শাকিল ও মনসুরের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর হালিশহরের বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে তাদের তুলে নেয় এসি শরীফুলের নেতৃত্বাধীন একটি দল। কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা পরোয়ানা ছাড়াই তাদের সিএমপি কমিশনার কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত সুরক্ষিত এলআইসি শাখায় ১২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

সেখানে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট বানিয়ে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে শাকিলের বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ‘নগদ’ থেকে মোট ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা সমপরিমাণের ক্রিপ্টোকারেন্সি ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এমনকি ভুক্তভোগীদের একটি প্রাইভেটকার দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আটকে রাখা এবং ১৪টি মোবাইল ফোন লুটের প্রমাণও তদন্তে উঠে এসেছে। পরবর্তীতে মুক্তি মিললেও তাদের ব্ল্যাকমেইল করে আরও ৫ লাখ টাকা এবং একটি আইফোন দাবির মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।