রবিবার

১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

গাজীপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের আগুনে পুড়ল পুলিশ বক্স, মহাসড়কে বিজিবি মোতায়েন

গাজীপুর,প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩০

শেয়ার

গাজীপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের আগুনে পুড়ল পুলিশ বক্স, মহাসড়কে বিজিবি মোতায়েন
ছবি: বাংলা এডিশন

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে আবারও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে মহানগরীর কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

রবিবার সকালে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার পর একপর্যায়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অবরোধের কারণে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

পরে হাজারো শ্রমিক লাঠিসোঁটা হাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিলে সড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

পুলিশ, কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ চলছে। এরই মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এ সিদ্ধান্তের পরও বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। রাতে তারা সড়ক ছেড়ে দিলেও রোববার সকাল থেকে আবারও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন ,শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। তারা কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা একটি পুলিশ বক্সে আগুন দিয়েছেন।

এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন। শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি জেলা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।