বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চলতি বছর কলেজটি থেকে ৭৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র চারজন। অকৃতকার্য হয়েছেন বাকি ৭৪ জন। এতে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। শিক্ষার এমন হতাশাজনক ফলাফলের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিয়েও দেখা দিয়েছে জটিলতা। কলেজটির সভাপতি পদে তিনজন এবং অধ্যক্ষ পদে তিনজন নিজেদের দাবিদার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন মোজাফফর হোসেন। পরে তিনি পদত্যাগ করলে ময়নুল আহসান অধ্যক্ষের দায়িত্বে আসেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্য ও শিক্ষকদের সুপারিশে জিয়াউল ইসলাম জুয়েলকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে কে বৈধভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।
অন্যদিকে, অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে জটিলতার পাশাপাশি গভর্নিং বডির সভাপতির পদ নিয়েও বিরোধ চলছে। কলেজ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেন লিটনকে সভাপতির পদ থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে আকিল আহম্মেদ মমিনকে সভাপতি এবং রবিউল আলম অশ্রুকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য করা হয়।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য রবিউল আলম অশ্রুকে সভাপতি এবং আকিল আহম্মেদ মমিনকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দেন বলে জানা গেছে। তবে শাহজালাল মানিকও নিজেকে কলেজটির সভাপতি দাবি করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকেও সংসদ সদস্য ডিও লেটার দিয়েছেন।
এতে সভাপতির পদে একাধিক ব্যক্তির দাবি এবং কমিটি পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ পরিচালনার বৈধতা নিয়ে বিরোধ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক ব্যক্তির সভাপতি ও অধ্যক্ষ পরিচয় দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
একদিকে কলেজের পরিচালনা ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ, অন্যদিকে শিক্ষার এমন হতাশাজনক ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলেজটির ফল বিপর্যয়ের কারণ এবং প্রশাসনিক বিরোধের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নিজেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করা জিয়াউল ইসলাম জুয়েলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
কলেজটির প্রশাসনিক বিরোধ নিরসন এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন:







