শনিবার

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩

রায়গঞ্জে দারিদ্র্য জয় করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫, মুন্নার স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪৮

শেয়ার

রায়গঞ্জে দারিদ্র্য জয় করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫, মুন্নার স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মো. মোন্নাফ হোসেন মুন্না। বাবা ইমারত নির্মাণশ্রমিক, মা একটি এনজিও অফিসের আয়া। সংসারে অভাব, বাবার অনিয়মিত কাজ আর সীমিত আয়ের মধ্যেও থেমে থাকেনি তাঁর পড়াশোনা। এসএসসির পর এইচএসসিতেও ভালো ফল করে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫

মুন্না এবার সরকারি বেগম নুরুন্নাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালে ধানঘরা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি।

দরিদ্র পরিবারের সন্তান মুন্নার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ এবং নিজের অধ্যবসায়। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেননি তিনি। তবুও নিজের চেষ্টা ও বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

মায়ের মাসিক আয় ৬ হাজার টাকা

মুন্নার বাবা রফিকুল ইসলাম পেশায় ইমারত নির্মাণশ্রমিক। মা মোছা. মিরা খাতুন একটি এনজিও অফিসে আয়ার কাজ করেন। মায়ের সামান্য বেতন আর বাবার অনিয়মিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাঁদের।

মোছা. মিরা খাতুন বলেন, ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করাই তাঁর স্বপ্ন। এনজিও অফিসে আয়ার কাজ করে মাসে মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতন পান তিনি। সংসারে অভাব-অনটন ও ঋণ থাকলেও নিজের প্রয়োজন কমিয়ে ছেলের পড়াশোনার পেছনে টাকা খরচ করেছেন। ছেলের এই ফলাফলে তাঁদের সব কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কাজের অনিশ্চয়তার মধ্যেও ছেলেকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন

মুন্নার বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ইমারত নির্মাণের কাজ সব সময় থাকে না। কোনো দিন কাজ পান, আবার কোনো দিন বাড়িতে বসে থাকতে হয়। অভাবের সংসার হলেও ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন কখনো ছাড়েননি তিনি। ছেলে ভালো ফল করায় তাঁরা অনেক খুশি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান মুন্না

নিজের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করে মো. মোন্নাফ হোসেন মুন্না বলেন, তাঁর বাবা-মা অনেক কষ্ট করে তাঁকে পড়াশোনা করিয়েছেন। তাঁদের সংগ্রাম তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতে চান তিনি। সেখানে পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে বাবা-মায়ের জন্য কিছু করতে পারবেন, এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে মুন্নার এই সাফল্যে নতুন করে আশার আলো দেখছে তাঁর পরিবার। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা তাঁর।