সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী রাগীব রাবেয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. ছিফত আলী ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রাসেল মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখা-৩ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন সহকারী পরিচালক মো. ফিরোজ মিয়া।
তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার দাবি
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা, নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন, একাদশ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়া এবং প্রশাসনিক পরিদর্শনের নামে সাংবাদিকদের এড়িয়ে গোপন বৈঠকের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলা এডিশন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে নেয় মাউশি। অধিদপ্তরের মনোনীত কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত শেষে গত ২১ অক্টোবর দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে জরুরি প্রশাসনিক ও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
পরিচালনা পর্ষদকে নতুন প্রধান নিয়োগের নির্দেশ
মাউশির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক মো. ছিফত আলী, ইনডেক্স নম্বর ৪১০১০০১৮ এবং সহকারী শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রাসেল মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১-এর ১১.১০ (খ ও গ) ধারা অনুসরণ করে অবিলম্বে অন্য কাউকে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ এবং মাউশির তদন্তের পর দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ইউএনওর বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই শিক্ষকের বরখাস্তের আদেশ সম্পর্কে তিনি জানতেন না। ২৯ অক্টোবর সকালে তাঁদের কাছে মাউশির প্রশাসনিক বদলির চিঠি এসেছে বলে জানান তিনি।
তবে বরখাস্তের আদেশের পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে প্রটোকল দিয়ে বিদ্যালয়ে নেয়া এবং সাংবাদিকদের এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:







