শনিবার

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩

সাভারের শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসা গ্রেপ্তার

মাসুদ রানা,সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৫

আপডেট: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৭

শেয়ার

সাভারের শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসা গ্রেপ্তার
ছবি: বাংলা এডিশন

সাভারের হেমায়েতপুরের আলোচিত দুর্ধর্ষ মুসা বাহিনীর প্রধান মোশাররফ হোসেন মুসাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে অপু রাড়িকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন মুসা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগেও ২০২৫ সালে হেমায়েতপুরের ব্যবসায়ী রমজানকে গুলি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মুসা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এক ডজন অভিযোগ ও কয়েকটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায়ও একাধিক মামলার আসামি তিনি।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্যসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন মুসা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির ৭নং ওয়ার্ডের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালের ৯ জুলাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড এবং একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে মোশারফ হোসেন মুসাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও হেমায়েতপুর এলাকায় তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অস্ত্রের মহড়া, দখল বাণিজ্য, গুলি করে চাঁদা আদায়, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত মুসা ও তার পালিত ক্যাডাররা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুসা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গেও কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

হেমায়েতপুর এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা, ঝুট ব্যবসা, মহাসড়ক ও মহল্লার সড়কের ফুটপাত, বিভিন্ন স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল মুসা বাহিনী। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

মোশাররফ হোসেন মুসাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা হোসেন জানান, পলাতক এই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে আলোচিত মুসা বাহিনীর প্রধান মোশাররফ হোসেন মুসার গ্রেপ্তারের খবরে হেমায়েতপুরসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখল বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।