শনিবার

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩

সাজেকে অবরোধে বিপাকে স্থানীয় বাসিন্দারা, বন্ধ ৩৫ কিমি সড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৪৩

শেয়ার

সাজেকে অবরোধে বিপাকে স্থানীয় বাসিন্দারা, বন্ধ ৩৫ কিমি সড়ক
ছবি সংগৃহীত

পাহাড়ের দুই সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান অবরোধে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে ক্ষোভ বাড়ছে তাঁদের মধ্যে।

গত ২৬ অক্টোবর অবরোধ পরিস্থিতি নিরসনে সাজেকের উজোবাজারে বৈঠক করেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা, দুই জেলার জেলা প্রশাসক, রাঙামেলার পুলিশ সুপারসহ দুই জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে অবরোধকারীরা পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল সাজেক থেকে জেএসএস সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া। অন্য দাবিগুলোর বিষয়ে সম্মতি থাকলেও জেএসএস সদস্যদের সরানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি সরকারি প্রতিনিধিদল। ফলে অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয় বৈঠক।

নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই সংগঠনের বিরোধ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির পর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করে। পরে পার্বত্য চুক্তির বিরোধের জেরে ইউপিডিএফ গঠিত হলে শান্তি বাহিনী না থাকার সুযোগে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সংগঠনটি। একপর্যায়ে সাজেককে নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, গত এক থেকে দেড় বছরে এলাকা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অর্থ কেলেঙ্কারি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ইউপিডিএফের একাধিক নেতা বহিষ্কৃত হন। পরে তাঁদের কয়েকজন প্রতিপক্ষ জেএসএসে যোগ দিলে সাজেকে ইউপিডিএফের সাংগঠনিক দুর্বলতা সামনে আসে।

এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জেএসএস সাজেকে ইউপিডিএফের প্রধান ঘাঁটি দখল করে নেয় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। একে একে ইউপিডিএফ পরিচালিত ছাগল, শূকর, মৎস্য ও কৃষি খামারও জেএসএস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। একপর্যায়ে এলাকা ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হন ইউপিডিএফের সদস্যরা।

অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা থেকে ইউপিডিএফ প্রথমে পর্যটকদের জিম্মি করার চেষ্টা করে এবং পরে স্থানীয়দের সামনে রেখে অবরোধের ডাক দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী শুরুতে নমনীয় অবস্থান নিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ দেখায়। তবে পর্যটকদের উদ্ধারের পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ২২ অক্টোবর পর্যটকদের উদ্ধারের পর অবরোধ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আর আগের মতো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবরোধ এক বছর ধরে চললেও তারা এ বিষয়ে আর আগ্রহ দেখাবে না।

ওই জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, বর্তমানে সাজেকে কলা, মরিচ ও কমলার ভরা মৌসুম চলছে। টানা অবরোধের কারণে পচনশীল এসব কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। এতে তাঁদের ক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

টানা আট দিন বন্ধ ৩৫ কিলোমিটার সড়ক

টানা আট দিন ধরে সাজেক ভ্যালির ৩৫ কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পর্যটক না থাকায় পর্যটন ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষও দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, সাজেকের অবরোধ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। আগে যে অবস্থায় ছিল, এখনো তা-ই রয়েছে। নতুন করে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি।