শুক্রবার

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩

বাবাকে হারিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে সন্তান, হাসপাতালে আইসিইউ-সিসিইউ স্থাপনের দাবি

মোঃ শফিক খাঁন, ভোলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৫৯

শেয়ার

বাবাকে হারিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে সন্তান, হাসপাতালে আইসিইউ-সিসিইউ স্থাপনের দাবি
ছবি: বাংলা এডিশন

জন্মদাতা বাবাকে হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে এবার অন্য রোগীদের জীবন বাঁচানোর দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে নেমেছেন এক যুবক।

ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) চালুর দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো একাই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নয়ন খান নামের এই যুবক।

ভোলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত হাসপাতালটিতে আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতালের নতুন বহুতল ভবনের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান করেন ভোলা সদর উপজেলার বাসিন্দা নয়ন খান।

নয়ন খানের দাবি, গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অসুস্থ বাবাকে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা এবং আইসিইউ-সিসিইউ সুবিধা না থাকায় বাবাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রিয় বাবাকে হারানোর সেই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুলে ধরেন তিনি।

নয়ন জানান, তাঁর পরিবারের মতো পরিস্থিতি যেন অন্য কোনো পরিবারকে মোকাবিলা করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই তাঁর এই প্রতিবাদ। হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও সিসিইউ চালু না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবারও একই দাবিতে অবস্থান করেন নয়ন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০২১ সালের ২৯ জুলাই ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ছয় শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স ও প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবলের অভাবে পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের পরও জনবল সংকটে কেন বছরের পর বছর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভোলার মানুষ? একজন সন্তানকে যেন বাবাকে হারিয়ে এমন প্রতিবাদে নামতে না হয়—এমনটাই প্রত্যাশা ভোলাবাসীর।