শুক্রবার

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩

সাজেকে অস্থিরতার নেপথ্যে আধিপত্যের লড়াই ও চাঁদাবাজি?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৩

শেয়ার

সাজেকে অস্থিরতার নেপথ্যে আধিপত্যের লড়াই ও চাঁদাবাজি?
ছবি সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার অর্থের নিয়ন্ত্রণ এবং পারস্পরিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংকট পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করছে। অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং আন্দোলনকারী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়ি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাজেকের বর্তমান সংকট শুধু একটি অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধ, এলাকা নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা এবং চাঁদা আদায়ের অর্থনৈতিক স্বার্থ।

পাহাড়ি দুটি সংগঠনের ডাকে টানা অবরোধে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে এনে পর্যটন ব্যবসাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বেশ সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

অবরোধের নেপথ্যে অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর উপস্থিতির অভিযোগ

সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির অভিযোগ, সাজেকের মাচালং এলাকায় গত ৩১ আগস্ট থেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান করছেন। তাদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ ও চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি সংগঠন দুটির।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার দাবি, প্রায় দুই মাস ধরে ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী এলাকায় অবস্থান করছে। এ সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাড়াপ্রধানদের মারধর, হুমকি, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক শ পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছে। এসব পরিবারকে নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরিয়ে আনা এবং সাজেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আন্দোলন শুরু হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত অস্ত্রধারী গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।