অনিশ্চয়তার অন্ধকারে নিমজ্জিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি রাগীব রাবেয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজ। কলেজটিতে একাদশ শ্রেণীতে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি নেই। অথচ কোনো ডিউটি না করেই শিক্ষকরা নিয়মিত তুলে নিচ্ছেন সরকারি বেতন-ভাতা! এমনকি প্রধান শিক্ষককে বাঁচানোর প্রটোকল দিতে গিয়ে খোদ উপজেলা প্রশাসনও এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর থেকেই আওয়ামী লীগের দোসর ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিফত আলীকে বহিষ্কার ও পদত্যাগের দাবিতে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। ২৫ সালের নভেম্বর মাসে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান রাসেল মিয়া। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, গত এক বছরে একদিনও বিদ্যালয়ে আসেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাসেল মিয়া! তিনি বিভিন্ন পত্রে হাজিরা না দেওয়ার কারণ হিসেবে ভয়ভীতির অজুহাত দেখিয়ে আসলেও বহাল তবিয়তে আছেন। এদিকে প্রধান শিক্ষক সিফত আলী বাধ্যতামূলক ছুটিতে থেকেও নিজের নামে সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করে যাচ্ছেন। প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত—উভয়ের অনুপস্থিতিতে কলেজ সেকশনে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি, ভেঙে পড়েছে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা। এর প্রভাব পড়েছে ষষ্ঠ শ্রেণীর ভর্তিতেও, যা গত বছরের তুলনায় খুবই কম।
এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা যাচাই করতে আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ, আনসার ও বিজিবি বাহিনী নিয়ে রাগীব রাবেয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম ও বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
ঘটনার খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাসেল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ইউএনও এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একটি কক্ষে গোপন বৈঠক করেন।সাংবাদিক দের অন্য কক্ষে বসিয়ে, কি এমন মিটিং হচ্ছিলো যা সাংবাদিকগন জানলে সমস্যা না কি লেনদেনের কোনো বড় আলোচনা হচ্ছিলো বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিবাবক সদস্য৷
বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা তথ্য ও তাঁদের বক্তব্য জানতে চাইলে ইউএনও কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন। দিনভর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুলিশ-প্রশাসনের প্রটোকল দিয়ে তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই সকল অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে চলে যান।
পরবর্তী সময়ে মোঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি৷
এছাড়া বক্তব্য নেয়ার জন্য বর্তমান কমিটির সভাপতি (উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা'কেও ফোন দিলে তিনি কল রিসিভ করেন নি, সরাসরি দেখা হওয়ার পরে তিনি বক্তব্য দেন নি৷
অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাসেল মিয়া মোঠোফোনে জানান :- আমি দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারন আমাকে নানান ভাবে ভয়ভীতি হুমকি ধমকি দেয়া হয়েছিলো তাই আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারি নি, বিদ্যালয়ে ডিউটি না করে নিয়মিত বেতন ভাতা উক্তলন কি ভাবে করেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি গ্যাজেটে উল্লেখ আছে যদি কোনো সমস্যার কারনে শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হন তা হলে শিক্ষকের বেতন কাটা যাবে না, তিনি বেতন পাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷
তিনি আরও বলেন, আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও কোনো তদন্তে আসেন নি, শুধু মাত্র আমাকে বিদ্যালয়ে পৌছে দেয়ার জন্য তিনি বিদ্যালয়ে আসছেন৷
কর্তৃপক্ষের এমন রহস্যজনক আচরণ ও সাংবাদিকদের এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সত্যের মুখোমুখি হতে ইউএনওর ভয় কোথায়? তবে কি দুর্নীতিবাজদের রক্ষার পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অদৃশ্য ইশারা? নাকি বান্ডিলে বান্ধা ইউএনও ৷
আরও পড়ুন:







