ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং পদে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা বাস্তবে ৯ জন হলেও বেতন ও হাজিরা শিটে ১০ জন দেখিয়ে ১১ মাসের বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের আওতায় ১০ জন কর্মচারী নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কুকমর্শাচি পদে কর্মরত কাওসার কয়েক মাস কাজ করার পর বেতন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রায় ১৬ মাস আগে বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে পদটি শূন্য থাকলেও সেখানে নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।
কর্মচারীদের অভিযোগ, আউটসোর্সিংয়ের নিয়োগসংক্রান্ত পরিপত্র অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারীর অনুপস্থিতিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য কাউকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত দেখানোর সুযোগ নেই। অথচ কাওসারের শূন্য পদে হাসিনা খাতুনকে কর্মরত দেখিয়ে ১৬ মাসের হাজিরা শিটে স্বাক্ষর করানো হয়েছে এবং তাঁর নামে ১১ মাসের বেতন উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কর্মচারীরা জানান, দীর্ঘ ১৬ মাস বেতন না পাওয়ার পর চলতি মাসে তাঁরা ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ১১ মাসের বেতন পেয়েছেন। তবে বেতন শিট ও হাজিরা শিটে ১০ জনের নাম দেখতে পান তাঁরা। তাঁদের দাবি, হাসিনা খাতুন কখনো তাঁদের সঙ্গে হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে কাজ করেননি।
আউটসোর্সিংয়ের কুকমর্শাচি পদের কর্মচারী শাকিল বলেন,আমার পদে কাওসার ও আমি দুজন ছিলাম। কয়েক মাস কাজ করার পরও বেতন না পেয়ে কাওসার বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে আমরা ৯ জন কাজ করছি। তাঁর স্থলে নতুন করে কাউকে নিয়োগও দেওয়া হয়নি। অথচ হাসিনা খাতুনের নামে ১১ মাসের বেতন উত্তোলন করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
আউটসোর্সিংয়ের নিরাপত্তা প্রহরী সন্দীপ কুমার বলেন, “হাসিনা খাতুন আউটসোর্সিংয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী নন। কাওসারের স্থলে অনিয়মের মাধ্যমে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করে ১১ মাসের বেতন উত্তোলন করা হয়েছে বলে আমাদের অভিযোগ। তাঁর নাম বেতন শিটে না থাকলে আমরা হয়তো আরও এক মাসের বেতন বেশি পেতাম।
হাসপাতালের আরও কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, হেলেনা আক্তার নিপা হাসপাতালে যোগদানের কয়েক মাস পর হাসিনা খাতুনকে তাঁর ব্যক্তিগত কাজের সহযোগিতার জন্য নিয়ে আসেন। তাঁদের দাবি, হাসিনা হাসপাতালের নিয়মিত কর্মচারী নন। তাঁকে আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারী হিসেবে দেখিয়ে বেতন উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
এদিকে,হাসিনা খাতুন কবে থেকে আউটসোর্সিং পদে কাজ করছেন এবং তাঁর নিয়োগপত্র রয়েছে কি না,তা জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
আরও পড়ুন:







