টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় আলোচনায় আসা শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি দেশেই রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রুমির আইনজীবী এইচ এম রুহুল আমীন মোল্লা (হাসান) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইনি সহায়তা নিতে সোমবার বিকেল থেকে দীর্ঘ সময় তাঁর চেম্বারে অবস্থান করেন শাহজালাল রুমি। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। তবে আবেদনটির শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
আইনজীবী আরও বলেন, তাঁর মক্কেল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং সুবিচার নিশ্চিত করতে চান তিনি।
শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে ঘটনা
গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধর করেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। পরে ওই শিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে দায়ের করা পাল্টা মামলায় রুমির বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা চুরি, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। এ মামলা দায়েরের পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না।
দেশ ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন রুমি
এরই মধ্যে সোমবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা জানান শাহজালাল রুমি। তিনি বলেছিলেন, আমি এই দেশে আর নাই। এগুলো নিয়ে আর ভাবছি না, যা হয় হোক, আপনারা ভালো থাকেন।
তবে মঙ্গলবার তাঁর আইনজীবী জানান, রুমি দেশেই রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:







