মঙ্গলবার

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল হত্যাকান্ডে আটক এক

নাটোর, প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩২

শেয়ার

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল হত্যাকান্ডে আটক এক
ছবি: বাংলা এডিশন

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২) হত্যাকান্ডে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে (৫০) আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

সোমবার রাতে গুরুদাসপুরের ভাড়া বাসা থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়।

নাটোর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরীফুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মিন্টুকে নাটোর ডিবি পুলিশ হেফাজতে রেখে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকান্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক দেখানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ছাত্রদল নেতা হত্যাকান্ডের বিষয়টি দেশ জুড়ে আলোচনায় থাকায় নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

এদিকে ছাত্রদল নেতা শাকিলের মৃত্যুর পর মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে তাঁর বাড়িতে যান। শাকিলের বাবা রবিউল করিম, তাঁর মা তশরী বেগম, স্ত্রী হাফসা শারমিন ও বোন শাকিলাকে সান্তনা দেন। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্য শাকিলের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। গত ২৬ অক্টোবর সোমবার রাতে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বদ আছর বিএনপি’র কেন্দ্রীয কার্যালয়ের সামনে তার প্রথম জানাজা শেষ হয়েছে। বাদ এশা বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারী কলেজে জানাজা শেষে পুরানপাড়া কবরস্থানে তাঁকে দফন করা হবে বলে জানিয়েছে শাকিলের পরিবার।

মঙ্গলবার দুপুরে শাকিলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শাকিলের মা তশরী বেগম বিলাপ করছেন। তাঁকে সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন প্রতিবেশীরা। ঘরের ভেতর অনেকটা অচেতন হয়ে পড়ে আছেন স্ত্রী হাফসা শারমিন। আর ছোট বোন শাকিলা খাতুন পাশে বসে অঝোরে কাঁদছেন।

অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ভালোবেসে শাকিলের সঙ্গে বিয়ে হয় হাফসা শারমিনের। বিয়ের মাস সাত মাস পরেই গত ১৪ অক্টোবর দুবৃর্ত্তদের হামলায় স্বামীকে হারালেন তিনি।

শাকিলের বাবা রাজমিস্ত্রি শ্রমিক রবিউল করিম জানান, শাকিল কলেজে পড়ালেখার সুবাদে ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সেই রাজনীতি তাঁকে সন্তান হারা করেছে, একটি পরিবারকে সর্বস্বান্ত করেছে। শাকিলের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, ছেলের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনাটি গত ১৪ অক্টোবর ঘটেছে। পাঁচ দিন পর (১৯ অক্টোবর) থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দিয়েছিলেন তিনি। এজাহার গ্রহণের ১২ দিন পরও কোনো আসামিকে গেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে ও যুবদল নেতা নুরুজ্জামান মিন্টু আটকের খবরে তিনি আরও বলেন, এমপির ছেলে বলে কথা নয়। ছেলে হত্যার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হোক।

সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, অপরাধী তাঁর ছেলে হলেও কোনো আপত্তি নেই তাঁর। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষে আছেন এবং থাকবেন। তা ছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য-গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পড়া সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ছাত্রদল নেতা শাকিল। তাঁকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে করে তারা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেয়া হয়। সোমবার রাত সাড়ে ৮ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।