হিমালয়ের বরফে ঢাকা বিশ্বের সর্বোচ্চ তৃতীয় অপরূপ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভোরের সোনালি আলো, কুয়াশায় মোড়ানো প্রকৃতি আর দিগন্তজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বরফশুভ্র পাহাড় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেশের সর্বউত্তরের আকাশে দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান এবং সবচেয়ে ভালো তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাকবাংলো থেকে দেখা যায় পাহাড়ের এ অপরূপ দৃশ্য। দূর আকাশে সাদা মেঘের মতো ভেসে থাকা পাহাড়ের দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকেরা।
জানা যায়, কাঞ্চনজঙ্ঘা বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার। হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত এই বিশাল পর্বত নেপাল ও ভারতের সিকিম অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিস্তৃত। বিশেষ করে আকাশ পরিষ্কার থাকলে তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যায় বিশ্বের এ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। কাঞ্চনজঙ্ঘার এই অপরূপ দৃশ্য শুধু পর্যটকদের মুগ্ধই করে না, বরং পঞ্চগড়ের পর্যটন সম্ভাবনাকেও নতুন করে তুলে ধরে। তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর তীর, সবুজ চা-বাগান আর গ্রামীণ জনপদের শান্ত পরিবেশ এই সৌন্দর্যকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ দিকে শুরু হয়ে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেখা যাওয়ার সম্ভব্য সময়। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার আকাশ ও অনুকূল আবহাওয়া। তাই প্রকৃতির এই বিস্ময় দেখতে আসার আগে আবহাওয়ার পরিস্থিতি জেনে নেয়া।
পর্যটক আহসান হাবীব বলেন, প্রকৃতির এই রঙিন দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির সৌন্দর্যের পেছনে যেমন রয়েছে বিস্ময়, তেমনি রয়েছে বিজ্ঞানের চমৎকার ব্যাখ্যাও। তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা যেখানে ভোরের আলোয় বরফের পাহাড় কখনো সোনালি, কখনো লালচে রঙে রাঙিয়ে তোলে দিগন্তে।
স্থানীয় সোহেল রানা বলেন, মেঘ, কুয়াশা ও বায়ুমণ্ডলের অবস্থার কারণে কখনো পাহাড়টি স্পষ্ট দেখা যায়, আবার কখনো আড়াল হয়ে যায়। আজ ভোরে খুব সুন্দর দেখা গেছে। সাথে দিনভর দিগন্তজুরেও দেখা মিলেছে পর্বতশৃঙ্গের । তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য আকাশ পরিষ্কার থাকা জরুরি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, মেঘমুক্ত থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গিয়েছে। আজকে থেকে মেঘ ঢুকবে ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসাইন বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসু মানুষ যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন, সে লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:







