ঢাকার ধামরাইয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ মুন্সির বাড়ির গেটে থাকা নৌকা প্রতীক ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে যুবদলের নেতাকর্মীরা। আমজাদ মুন্সির বিরুদ্ধে ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের ললিতনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যুবদল নেতা এস এম জামান, সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোশারফ ও মোতালেবের নেতৃত্বে নৌকা প্রতীকটি ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমজাদ মুন্সি নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ললিতনগর এলাকার পচু বেপারীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে নিজ বাড়িতে ফেনসিডিল তৈরি ও ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ঘটনায় আপন ভাই মানিকসহ তার অনুসারীরা একাধিক বার গ্রেপ্তারের কথা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া, দেশকে অস্থিতিশীল করতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা এবং মহাসড়কে সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গুলিতে নিহত কলেজছাত্র সাদ হত্যা মামলায় ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ মোল্লা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বর্তমানে জামিনে থেকে প্রকাশ্যে চলাচল এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া, ২০১৪ সালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার মামলায় তিনি অন্যতম আসামি ছিলেন বলে জানা গেছে। ২০২২ সালে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম জামান বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনকে সহযোগিতা করছেন এবং সভা-সমাবেশ ও মিছিল করার চেষ্টা করছেন। আমজাদ মুন্সি নিজ বাড়িতে ফেনসিডিল তৈরি করার সময় তৎকালীন ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদের নেতৃত্বে তাকে আটক করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
জামান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভিন্নমতের নেতাকর্মীদের নির্যাতন, ভয়ভীতি দেখানো এবং জোর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের অভিযোগ। গণঅভ্যুত্থানের পরও নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ও প্রতীক থাকা তারা মেনে নিতে পারছেন না। এ ক্ষোভ থেকেই নৌকা প্রতীকটি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আরও পড়ুন:







