বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটনকে ঘিরে শাজাহানপুর বিএনপিতে গোপন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের কাছে নালিশের পর পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তৃণমূলের একাংশের দাবি, সমন্বয়হীনতার অভিযোগ সামনে এনে সংসদ সদস্যকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভ।
গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বগুড়া সার্কিট হাউসে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহীন। এসময় কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটনের সাথে নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে তার নিকট অভিযোগ করেন। এসব কথার গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় পরদিন।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহিন বলেন, এমপির বিরুদ্ধে এটি কোন গোপন ষড়যন্ত্র নয়। কথা বলার সময় জেলা বিএনপির সভাপতি বাদশা ভাই ছিলেন। শাজাহানপুরের রাজনীতির যে বাস্তব চিত্র তা তুলে ধরা হয়েছে। সমন্বয় হীনতা দূর করে এমপির সাথে একসাথে কাজ করতে চাই এটাই বলা হয়েছে।
শাজাহানপুর থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব তমিজউদ্দিন জানান, তৃণমূল বিএনপির সাথে সমন্বয় করে রাজনীতি করছেন এমপি মোর্শেদ মিলটন। কিন্তু সভাপতি এনামুল হক শাহিন তার একক আধিপত্য বজায় রাখতে তার অনুসারীদের দিয়ে এমপিকে একাধিকবার বিতর্ক করার চেষ্টা করেছেন এর আগেও।
শাজাহানপুর থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, থানা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহিনের চোখে এমপি সাথে নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে হীনতার কথা বললেও আমাদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে এমপির কোন প্রকার সমন্বয়হীনতা নেই।
তবে এ অভিযোগের পরদিন ২৪ অক্টোবর সকালে একই সার্কিট হাউসে মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বিদ্যুৎ। স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাক্ষাৎকালে তিনি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটনের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বিদ্যুৎ মুখ্যসচিবের কাছে অভিযোগগুলোর সত্যতা নেই বলে জানান।
এদিকে, সংসদ সদস্যকে ঘিরে এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে শাজাহানপুর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সংসদ সদস্যের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। অথচ সমন্বয়হীনতার অভিযোগ সামনে এনে সংসদ সদস্যকে বিতর্কিত করার চেষ্টা দলের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
শাহজাহানপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি বেলাল হোসেন বাবু বলেন, ক্লিন ইমজের একজন এমন সংসদ সদস্যকে নিয়ে গোপনে দলীয় হাইকমেন্ড কে কিছু বলা অনুচিত। মোরশেদ মিলটনএমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি, বেকারত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নির্লজ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উন্নয়ন কাজকে ব্যাহত করতেই এমন ষড়যন্ত্র চলছে বলে মনে করেন এই যুবদল নেতা।
শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু শাহিন সানি বলেন , দলের সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার করার পরিবর্তে সংসদ সদস্যকে ঘিরে এমন গোপন ষড়যন্ত্র ও বিতর্ক করা দলীয় শিষ্টাচার পরিপন্থী কাজ। তার মতে, দলের স্বার্থে ব্যক্তিগত বিরোধ ও বিভ্রান্তি দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
তবে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পরেই থানা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহীন এমপির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ চেয়েছিল। তখন ওনাকে বলে দিয়েছিলাম এমপিদের কোন প্রতিনিধি হয় না। এরপর থেকেই সে বিভিন্নভাবে দলের হাইকমান্ডের নিকট আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরছেন। তবে তৃণমূলে কোন নেতা কর্মীদের সাথে সমন্বয়হীনতা নেই বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন:







