মঙ্গলবার

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

‎সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রে এনজিও পরিচালক শম্পার নামে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা

‎সাতক্ষীরা,প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪০

শেয়ার

‎সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রে এনজিও পরিচালক শম্পার নামে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা
ছবি: সংগৃহীত

‎বর্তমান সরকারকে উৎখাতে ষড়যন্ত্র লিপ্ত প্রেরণা এনজিওর পরিচালক শম্পা গোস্বামী। ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে সাথে নিয়মিত অনলাইনে করছেন মিটিং। কিভাবে সরকারকে বিপাকে ফেলা যায় দিচ্ছেন নানা ছক। সরকার উৎখাতে তৈরি করেছেন নীল নকশা। দেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রেরণা এনজিও মাধ্যমে দিচ্ছে অর্থযোগান। এই অর্থে সরকার বিরোধী নাশকতায় লিপ্ত হচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা৷ অনুসন্ধানে এমন চাঞ্জল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের ডিটেকটিভ স্পেশাল ব্রাজ্ঞ ডিএসবির তদন্তে। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা শ্যামনগর থানায় হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা।

‎‎অনুসন্ধানে জানা যায়, দ্বৈত্য নাগরিক শম্পা গোস্বামী ভারতে জমি ক্রয় করেছেন। ভারতে রয়েছে তার বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ব্যালেন্স। প্রেরণা এনজিও মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিচ্ছে অর্থযোগান। ভারতীয় নাগরিক হওয়ার সুবাদে ২৪ আগষ্টের পরে ভারতের বসিরহাট মহকুমা শহরের বাড়িতে তার আশ্রয়ে আওয়ামী লীগের একাংশ নেতারা অবস্থান করছেন। ভারতে পালিয়ে থাকা নেতাকর্মীদের থাকা খাওয়ার সুযোগও করে দিয়েছেন শম্পা গোস্বামী।

‎তার এনজিও মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে সরকার বিরোধী বিদ্বেষমূলক বিভিন্ন তথ্য। মানুষকে উৎস্কানি দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে তার নিয়ন্ত্রণ এনজিওর কর্মীরা।

‎তাছাড়া তার এনজিওর মূল অফিস শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ। এক বছর আগে কালিগঞ্জ থেকে গুটিয়ে নেওয়া হয় প্রেরণা এনজিওর অফিস। প্রভাব বিস্তার করে মহিলা অধিদপ্তরের যোগসাজশে প্রেরণা এনজিও কালিগঞ্জ ঠিকানায় হাতিয়ে নিচ্ছে নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের টাকা। মহিলা অধিদপ্তরের তালিকায় দেখা যায় ৫০ হাজার করে কয়েকবার প্রেরণা এনজিও কালিগঞ্জের ঠিকানায় টাকা উত্তোলন করেছে। ভূয়া ঠিকানায় টাকা উত্তোলনের একটি অংশ ভাগ পায় মহিলা অধিদপ্তরেরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক নাজমুন নাহার। তবে এবিষয়ে ক্যামেরায় সামনে মুখ খুলতে চায়নি নাজমুন নাহার।

‎নাগরিক নেতা আমিনুর রহমান বলেন, শম্পা গোস্বামীর তার এনজিওর মাধ্যমে ভারতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থযোগান দিচ্ছে। সে ৫ ই আগষ্ট পরবতীতে দেশে তার এনজিও মাধ্যমে সরকারেরবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত। সে দ্বৈত নাগরিক হয়েও কিভাবে এনজিওর মালিক হয়। আমরা চাই এনজিও ব্যুরো তার লাইসেন্স বাতিল করুক।

‎জেলা মহিলা সংস্থার অতিরিক্ত দায়িত্ব উপ পরিচালক নাজমুন নাহার বলেন, শম্পা গোস্বামীর পরিচালিত এনজিও প্রেরণা বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঢাকা থেকে আমার কাছে গত ১০ বছরের অনুদানের তালিকা চয়েছে প্রেরণা এনজিওর। আমি তদন্ত করছি। রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামীর সাথে গোপন মিটিং করতে পারবে কি না প্রশ্নের জবাবে নাজমুন নাহার বলেন আমি তদন্তের স্বার্থে তাকে অফিসে ডেকেছি।

‎সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় প্রেরণা এনজিও পরিচালক শম্পা গোস্বামীর নামে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হয়েছে। সে আওয়ামী লীগের পুনঃবাসন জন্য তার এনজিও মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থ যোগান দিচ্ছে নেতাকর্মীদের সরকার পতনের নীল নকশা করছে শম্পা গোস্বামী। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যর ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। সে ভারতীয় নাগরিক আমরা চাই তার দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।

‎সতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ আশরাফুল বলেন, সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রে মামলা হয়েছে শম্পা গোস্বামীর নামে। পুলিশ তাকে খুঁজছে। আমরা পুলিশের সকল টিম কে এ্যালার্ট করেছি। আমদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুত রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামী শম্পা গোস্বামীকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।