মঙ্গলবার

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

বাঁশখালী প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১ পদের ছয়টিই শূন্য, ব্যাহত সেবা

শিব্বির আহমদ রানা,বাঁশখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৭

শেয়ার

বাঁশখালী প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১ পদের ছয়টিই শূন্য, ব্যাহত সেবা
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রাণী চিকিৎসা, সম্প্রসারণ ও পরামর্শসেবা কার্যক্রম। দপ্তরটির অনুমোদিত ১১টি স্থায়ী পদের মধ্যে ছয়টিই শূন্য। এর মধ্যে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ চার বছর ধরে এবং অফিস সহায়কের পদ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে উপজেলার বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দপ্তরে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে একজন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পদে চারজন কর্মরত রয়েছেন। চতুর্থ শ্রেণির দুটি পদের কোনোটিতেই কর্মরত জনবল নেই। শূন্য ছয়টি পদের মধ্যে রয়েছে একজন ভেটেরিনারি সার্জন, একজন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ), একজন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণিস্বাস্থ্য), একজন কম্পাউন্ডার (ইউএলএ)' একজন ড্রেসার ও একজন অফিস সহায়ক।

দপ্তরটির তথ্য অনুযায়ী, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) পদে একটি এবং প্রাণিস্বাস্থ্য পদে একটি পদ চার থেকে পাঁচ মাস ধরে শূন্য রয়েছে। ড্রেসারের পদটি এক বছর ধরে শূন্য। অন্যদিকে, ভেটেরিনারি সার্জনের পদ চার বছর এবং অফিস সহায়কের পদ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পূরণ হয়নি।

বাঁশখালীতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উপজেলায় গরু রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার, প্রজননক্ষম গাভি ৩০ হাজার ২৫০, মহিষ ২ হাজার ৪০০, ছাগল ৩৭ হাজার ৪০০ এবং ভেড়া ৫ হাজার ৬৫০টি। এ ছাড়া চরে বেড়ানো দেশি মুরগি প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার, বাণিজ্যিক ব্রয়লার বছরে প্রায় ৫ লাখ ৬২ হাজার, লেয়ার মুরগি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার এবং হাঁস প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার রয়েছে।

এসব প্রাণিসম্পদকে কেন্দ্র করে উপজেলায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের খামার। দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বাঁশখালীতে ডেইরি খামার ৯২৭টি, ছাগল-ভেড়ার খামার ৩৯৭টি, ব্রয়লার খামার ১৯৭টি, লেয়ার খামার ৩৫টি এবং বাণিজ্যিক হাঁসের খামার রয়েছে ৯টি।

এত বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসা, রোগ প্রতিরোধ, খামার ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নিয়মিত দাপ্তরিক সেবার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

দপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে গড়ে ৫০ থেকে ৭০ জন সেবাগ্রহীতা চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে আসেন। রবিবার ও বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। অর্থাৎ, ওই দুই দিনে গড়ে প্রায় ৮০ থেকে ১১২ জন পর্যন্ত সেবাগ্রহীতা আসতে পারেন। দপ্তরের বাইরে খামার পরিদর্শন, উঠান বৈঠক ও ভেটেরিনারি ক্যাম্পের মাধ্যমেও চিকিৎসা ও পরামর্শসেবা দেওয়া হয়। ফলে দাপ্তরিক সেবা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করতে সীমিত জনবলকে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রোগ নির্ণয়, প্রাণিস্বাস্থ্যসেবা ও খামারিদের কারিগরি পরামর্শ দেয়ার কাজে জনবল সংকটের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদার বলেন, 'উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে এই জনবল সংকট একরকম হঠাৎ করেই তৈরি হয়েছে। মূলত গত চার মাসের মধ্যে সম্প্রসারণ ও প্রাণিস্বাস্থ্য কাজে নিয়োজিত উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রায় সমসাময়িক সময়ে অবসরে যাওয়ায় এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে।'

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলার প্রায় সব উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরেই কমবেশি জনবল সংকট রয়েছে। কর্মচারী পদগুলোতে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ সংকট দ্রুত নিরসনের সম্ভাবনা কম। তবে, আমাদের উপজেলায় গবাদীপুশু সংখ্যা ও সেবার পরিধি চিন্তা করে জনবল সংকট দূরীকরণের বিকল্প নেই।

ডা. জুয়েল মজুমদার আরও বলেন, উপজেলায় বিদ্যমান বিপুলসংখ্যক পশু-পাখির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) এবং উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণিস্বাস্থ্য) পদে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত একজন করে জনবল পদায়ন করা গেলে সংকট নিরসনে ন্যূনতম হলেও ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা, পশু-পাখির রোগ প্রতিরোধ এবং খামারিদের নিয়মিত চিকিৎসা ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল থাকা জরুরি। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো পূরণের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে কারিগরি জনবল পদায়ন করা গেলে বাঁশখালীর প্রাণিসম্পদ খাতের সেবার মান ও কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।



আরও পড়ুন: