সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আল বিরুনী মীর দীর্ঘ শুনানি শেষে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।
সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গাজীপুরের হাবিবুর রহমান ওরফে পল্টি হাবিবের বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। তবে মামলার অভিযোগ ও এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মামলার পেছনে সংবাদ প্রকাশকে কারণ হিসেবে দাবি
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২৭ আগস্ট গাজীপুরের হোটেল ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে মামলাটিকে হয়রানিমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিশোধমূলকভাবে মামলাটি করা হয়।
সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিবাদ
দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে শুরু থেকেই সোচ্চার রয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। আদালতে তাঁদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কাওসার হোসাইন, অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হতে পারে। তবে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা কতটা আইনসিদ্ধ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তাঁর।
সাংবাদিক সংগঠনটির নেতারা জানান, সত্য প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি করা হলে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবেন।
সত্য প্রকাশে অনড় থাকার ঘোষণা সম্পাদকের
জামিন পাওয়ার পর দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান দাবি করেন, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী কাজ ও লেখনী থামিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং সত্য প্রকাশ করাই সাংবাদিকদের কাজ। মামলা বা হুমকি দিয়ে সত্য প্রকাশের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না।
মামলার অভিযোগ, আদালতের কার্যক্রম ও দুই সম্পাদকের জামিনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:







