ঢাকার কেরানীগঞ্জে আটতলা ভবনের ছাদে অবস্থিত একটি খেলনা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে কালিন্দী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের চেষ্টায় প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে কারখানার ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে কারখানায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথম ইউনিট দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে মোট আটটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর কারখানার ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।
প্রাথমিকভাবে কারখানায় থাকা দাহ্য পদার্থ কিংবা বিস্ফোরণের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক। তাঁর স্বাক্ষরিত সরকারি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশ অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কেরানীগঞ্জের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একজন পরিচালক এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের একজন পরিচালক।
কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে আগুন লাগার কারণ, কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং এ ঘটনায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
অগ্নিকাণ্ডে কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:







