রবিবার

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০ কার্তিক, ১৪৩৩

বিএসএফের ১৭ বছরের নির্যাতনের মোক্ষম জবাব দিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩০

শেয়ার

বিএসএফের ১৭ বছরের নির্যাতনের মোক্ষম জবাব দিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ!
ছবি সংগৃহীত

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর জন্ম নেয়া এক নতুন বাংলাদেশ, যেখানে সীমান্তে আগের মতো আধিপত্য দেখানোর দিন শেষ। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সীমাহীন নির্যাতন, সীমান্ত হত্যা আর অনৈতিক আগ্রাসনের শিকার হয়ে আসছিল এদেশের মানুষ।

কিন্তু, এখন সেই দিন বদলে গেছে। ওপাড় থেকে সামান্য উসকানি আসলেই এখন আর কেউ মুখ বুজে বসে থাকে না; বিজিবি আর স্থানীয় জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গড়ে তোলে তাৎক্ষণিক ও বজ্রকঠিন পাল্টা প্রতিরোধ। আধিপত্যের দিন ফুরিয়েছে, আর যেকোনো আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

পাটগ্রাম সীমান্তে পুরোনো ক্ষত

আর এই পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র যেন ফুটে ওঠে পেছনের পাতায়। লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ও তিনবিঘা করিডোর এলাকা, যেখানে বসবাসকারী মানুষের জীবনসংগ্রাম আর সীমান্ত আগ্রাসনের শিকার হওয়ার ইতিহাস বেশ পুরোনো।

বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলের সাধারণ কৃষকদের ওপর বিএসএফের হেনস্থা, বিনা কারণে মারধর এবং সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা যেন নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছিল। অতীতে এসব ঘটনার প্রতিবাদ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ফয়সালা মেলেনি কখনোই।

ভ্যানচালককে মারধর ও পতাকা বৈঠক

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। পাটগ্রামের তিনবিঘা করিডোর দিয়ে পারাপারের সময় এক গরিব বাংলাদেশি ভ্যানচালককে পৈশাচিক কায়দায় মারধর করে বিএসএফের এক সদস্য। প্রতিবাদের মুখে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভারতীয় বাহিনী দুঃখ প্রকাশ করে মুচলেকা দিলেও, সেই ক্ষতের কালি শুকাতে না শুকাতেই আবারও পুরোনো রূপে ফেরে বিএসএফ।

বামনদল সীমান্তে নতুন উত্তেজনা

এই অবস্থায়, শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে, বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তে ঘটে আরেক ঘটনা। ৮৩৭/৪-এস পিলারের কাছাকাছি এলাকায় যখন কৃষকরা নিজেদের জমিতে শান্তিতে কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ১০০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়ে বিএসএফ। উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের ওপর চড়াও হওয়া।

কিন্তু দিন বদলে গেছে। পিছু হটার পাত্র নন লালমনিরহাটের এই সাহসী মানুষেরা। লাঠিসোটা হাতে একজোট হয়ে তারা তেড়ে যান বিএসএফের দিকে। দিশেহারা হয়ে বিএসএফ পরপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো সীমান্ত এলাকা।

তারপর অস্ত্র হাতে পিছু হটে ভারতের বিএসএফ। ভাইরাল ভিডিও বার্তায় কড়া হুঁশিয়ারি

আর এখানেই দৃশ্যপটে এসেছে সেই নতুন বাংলাদেশ, যারা চোখে চোখ রেখে কথা বলতে জানে। ওপাড় থেকে যদি একটি গুলিও আসে, তবে এদেশের প্রশাসন আর স্থানীয় জনতা এক সুতোয় গেঁথে এক মুহূর্তের জন্যও দেরি করে না, বজ্রকঠিন হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে।

এরই প্রতিফলন দেখা গেল সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিজিবির সেই চাঞ্চল্যকর ভিডিও বার্তায়। বিজিবি সদস্য সরাসরি বিএসএফের চোখের দিকে তাকিয়ে শুনিয়ে দিয়েছেন কড়া সত্য।

এরপরই আসে সেই ঐতিহাসিক হুঁশিয়ারি, যা কাঁপিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে।

চোখে চোখ রেখে কথা বলে বাংলাদেশ জানিয়ে দিল, সীমান্তে আধিপত্যের দিন শেষ। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আর কোনো ছাড় নয়, দেশের এক ইঞ্চি মাটিতেও আঘাত হানলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত বাংলার মাটি ও মানুষ।