রবিবার

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০ কার্তিক, ১৪৩৩

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যা, তিন জন গ্রেপ্তার

কেরানীগঞ্জ,প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৯

শেয়ার

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যা, তিন জন গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় ঢুকে ডালিয়া আক্তার নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ডালিয়া আক্তার কেরানীগঞ্জের বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি ছিলেন বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আশিক, মো. আলমগীর হোসেন ও মো. অনিক। তাদের সবার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা এলাকায়।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) তারিকুল ইসলাম এবং কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিলুল হক, পিপিএমের নেতৃত্বে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুর বাজারসংলগ্ন সুইডেন প্লাজার তৃতীয় তলায় নিজ ফ্ল্যাটে ডালিয়া আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে ডালিয়া আক্তারের পূর্বপরিচয় ছিল। চুরির উদ্দেশ্যে তারা পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে তাঁর বাসায় প্রবেশ করেন। এ সময় ডালিয়া আক্তার ঘুম থেকে উঠে চিৎকার করলে তাঁরা প্রথমে তাঁর মুখ চেপে ধরেন। পরে ধরা পড়ার আশঙ্কায় তাঁকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

হত্যাকাণ্ডের পর তাঁরা বোরকা ও জুতা ফেলে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মুন্সীগঞ্জের বালুচর ও আব্দুল্লাহপুর বাজার এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরকার অংশবিশেষ ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত ডালিয়া আক্তার বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট এলাকার মৃত মজিদ শিকদারের মেয়ে। তাঁর দুই মেয়ে—নাদিয়া আক্তার ও লিজা আক্তার।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলাটির নম্বর ৮/২; এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।