রবিবার

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০ কার্তিক, ১৪৩৩

শেরপুরে অধিক মুনাফার প্রলোভনে প্রতারণা, সর্বস্বান্ত হওয়ার শঙ্কায় বহু ভুক্তভোগী

‎জান্নাতুল বাকী,শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩০

শেয়ার

শেরপুরে অধিক মুনাফার প্রলোভনে প্রতারণা, সর্বস্বান্ত হওয়ার শঙ্কায় বহু ভুক্তভোগী
ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরে ব্যবসার নামে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কৃষক, ধান ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অন্তত ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে রমজান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় থানায় ভিড় করছেন ভুক্তভোগীরা। ইতোমধ্যে ১১ জন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎গত ২৪ অক্টোবর রাতে শেরপুর জেলা শহরের দীঘারপাড় মহল্লায় অভিযুক্তের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রমজান আলী শেরপুর সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের শুনিডুবারপাড় এলাকার এনামুল হকের ছেলে।

‎পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিক লাভের আশ্বাস দিয়ে রমজান আলী শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়ন, শেরপুর পৌরসভা, ভাতশালা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক, ধান ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে অন্তত ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

‎দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত না পেয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগীরা। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই পাওনা টাকার দাবি নিয়ে শেরপুর সদর থানায় উপস্থিত হন। তবে অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ, মোট ভুক্তভোগীর সংখ্যা এবং টাকা আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‎ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, তাঁদের সঞ্চিত অর্থ ও ব্যবসার পুঁজি অভিযুক্তের কাছে আটকে রয়েছে। পাওনা টাকা ফেরত না পেলে তাঁদের অনেকেই আর্থিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন। কেউ কেউ নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে পাওনা টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হোক।

‎শেরপুর সদর থানার সেকেন্ড অফিসার আমিনুল ইসলাম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রমজান আলীকে আটকের পর তাঁর কাছে টাকা পাওয়ার দাবি নিয়ে অনেকেই থানায় আসছেন। এ পর্যন্ত ১১ জন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

‎অভিযোগের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত এবং অন্য কেউ এ ঘটনায় জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি তাঁদের পাওনা অর্থ ফেরত পাওয়ার কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।