শনিবার

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯ কার্তিক, ১৪৩৩

গাজীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর; আসলে কী ঘটেছিলো?

নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০০

শেয়ার

গাজীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর; আসলে কী ঘটেছিলো?
ছবি সংগৃহীত

একটি অভিযোগ আর সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মাদ্রাসাশিক্ষককে কষিয়ে চড়। এরপর বেধড়ক মারধরে গুরুতর জখম।

বুধবার (২১ অক্টোবর) টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী মালিহা নামের এক শিক্ষার্থীকে চুমু দেয়ার অভিযোগ তুলে শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করেন শিক্ষার্থীর বাবা শাহজালাল রুমি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

শাহজালাল রুমির অভিযোগ, শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিন তাঁর মেয়ে মালিহাকে চুমু দিয়েছেন। আর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই তিনি শিক্ষকের ওপর হাত তোলেন।

প্রতিষ্ঠাতার দাবি ও সিসিটিভি ফুটেজ

তবে ঘটনার ভিন্ন চিত্র উঠে আসে ক্বারীউল কুরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্যে। তাঁর দাবি, শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিন মেয়েটিকে শুধু পড়ালেখায় উৎসাহ দেয়ার উদ্দেশ্যেই চুমু দেয়ার কথা বলেছিলেন। তবে চুমু দেয়ার কথা বললেও বাস্তবে তিনি তা করেননি বলে জানান মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা।

শুধু তা-ই নয়, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আরও জানান, চুমু দেয়ার ঘটনা সত্যি হলে মালেহার মা বিষয়টি জানার পরদিনই তাঁর মেয়েকে মাদ্রাসায় পাঠাতেন না।

এদিকে মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজেও উঠে আসে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্যের সঙ্গে সত্যতার চিত্র। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার দিন শিক্ষক মেয়েটির ক্লাস নিলেও সেখানে চুমু দেয়ার মতো কোনো ঘটনা দৃশ্যমান হয়নি।

হামলা ও লুটের অভিযোগ

অন্যদিকে শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের ওপর শাহজালাল রুমি ও তাঁর সহযোগীদের নৃশংস হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন।

একইসঙ্গে মাদ্রাসা থেকে প্রায় ১৭ লাখ টাকা লুট করার অভিযোগও উঠেছে শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলমাছ হোসেন বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেছেন।

অভিভাবক ও আলেম সমাজের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্যেও উঠে আসে প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা। এমনকি শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও এর আগে এমন কোনো অভিযোগ শোনেননি বলে জানান অনেক অভিভাবক।

একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতেই তাঁকে এভাবে অমানবিক মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের আলেম-উলামারা।

অন্যদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ দাবি করেছে, ওই শিক্ষার্থীকে চুমু দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে তারা।

এদিকে শাহজালাল রুমির শিক্ষককে মারধরের ঘটনাকে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে আইন বিশেষজ্ঞরা।

তবে এ বিষয়ে শাহজালাল রুমির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তকে সন্ত্রাসী কায়দায় মারধর করা হয়েছে—সেই ঘটনার চিত্রও সামনে এসেছে। কিন্তু যে অভিযোগের ভিত্তিতে একজন মাদ্রাসাশিক্ষক নির্মম মারধরের শিকার হলেন, সেই অভিযোগের সত্যতা কতটুকু? আর অভিযোগের বিচার করতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকারই বা কতটুকু? একটি অভিযোগের আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল? ন্যায়বিচারের চেষ্টা, নাকি ক্ষমতার শক্তি প্রদর্শন? এই প্রশ্নই এখন ডালাপালা মেলেছে।