ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলার প্রধান আসামি জামাই ইস্রাফিলকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ রোডের "রংধনু টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিক্স" দোকানের সামনে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এসআরবি-৭, সিপিসি-৩, চট্টগ্রামের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার ইস্রাফিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নারুই গ্রামের শিশু মিয়ার ছেলে।
এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২:৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাদুঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনোয়ারা বেগমের মেয়ে জান্নাতের স্বামী ইস্রাফিল তাঁর স্ত্রীকে খুঁজতে শাশুড়ির বাড়িতে যান। জান্নাত সেখানে এসেছেন কি না, তা জানতে চাইলে মনোয়ারা বেগমের স্বামী আইয়ুব আলী জানান, জান্নাত তাঁদের বাড়িতে আসেননি।
এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে অপর এক ব্যক্তির নির্দেশে ইস্রাফিল ছুরি দিয়ে আইয়ুব আলীকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বামীকে রক্ষা করতে মনোয়ারা বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
পরে তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ অক্টোবর মনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটির প্রাথমিক ধারাগুলোর সঙ্গে পরে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামি ইস্রাফিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআরবি-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:







