শনিবার

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯ কার্তিক, ১৪৩৩

তিন দফা দাবিতে রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে অবরোধ চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৯

শেয়ার

তিন দফা দাবিতে রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে অবরোধ চলছে
ছবি সংগৃহীত

তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলছে। শনিবার সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন।

শনিবার সকালে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অবরোধে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কুতুকছড়ি বাজার এলাকা এবং খাগড়াছড়ির পানছড়ি পুজগাঙ এলাকায় সড়ক অবরোধ করতে দেখা যায়। অন্যদিকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেকের বাঘাইহাট ১০ নম্বর ও মাচালং ১৪ কিলো এলাকায় টায়ার ও গাছের গুঁড়ি পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার রাঙামাটি পৌর এলাকার কল্যাণপুর বসা হাটেও বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল ছিল খুবই কম। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছু বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।

নৌপথেও লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচল কম ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে অবরোধ চলা এবং সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির খবর ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক তাঁদের যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

তিন দফা দাবিতে অবরোধ

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেকের মাচালং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকা থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, জেএসএসের সদস্যদের সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করা এবং সেনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে তল্লাশি ও হয়রানি বন্ধ করা।

তিন দফা দাবিতে ডাকা সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকান ভাঙচুরের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাজেকবাসীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ সড়ক ও নৌপথ অবরোধ সফল করার আহ্বান জানিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।

গত ৮ অক্টোবর প্রথমবারের মতো সাজেকজুড়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। এরপর কয়েক দফায় অবরোধ প্রত্যাহার ও পুনর্বহাল করা হয়। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার আবারও অবরোধের ডাক দেয় সংগঠন দুটি।