ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: এই মাসের ২৯ তারিখে ভোট বলে শুনছি, পাঁচজন প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন। আমরা শুধু জামায়াত আর বিএনপির প্রার্থীকে দেখেছি। আর কেউ আসেননি। বাকি তিনজন যে দাঁড়িয়েছেন তাদের চেনা তো দূরের কথা নামও ঠিকমতো জানি না। কোনো দিন আমাদের কাছে ভোট চাইতে আসেননি। তাদের ব্যানার নেই মাইকিংও নেই। তাদের না চিনলে না জানলে কাকে ভোট দেব বিএনপি আর জামায়াতের যে দুজন ভোট চাইতে এসেছেন তাদের একজনকে ভোট দিতে হবে। দুজনই ভালো মানুষ। কথা দিয়েছেন আমাদের পাশে সব সময় থাকবেন।
কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সীতা পাল। শুধু সীতা পাল নন তার মতো অনেক ভোটারই আসন্ন উপনির্বাচনের বাকি তিন প্রার্থীকে চেনেন না। এসব প্রার্থী ভোটারদের কাছেও যাচ্ছেন না।
প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর গত ৮ অক্টোবর থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করে বিএনপি ও জামায়াত। শহরের বিভিন্ন সড়ক পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনি পোস্টার ব্যানার ও ফেস্টুন ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রচারসামগ্রী চোখে পড়েনি।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। তারা হলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ) জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের ভোটার আকাশ রহমান বলেন বেশ কয়েক দিন ধরে ভোটের আমেজ চলছে। এবার ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। কারণ দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। কে জিতবেন তা বলা যাচ্ছে না। বাকি তিনজন প্রার্থী যে আছেন তাদের আমরা দেখিনি চিনিও না। শুধু খবর আর ফেসবুকে দেখছি।
সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের ভোটার আখি আক্তার বলেন দুই প্রার্থীর কোনো না কোনো কর্মী প্রতিদিন আমাদের এলাকায় ভোট চাইতে আসছেন। উঠান বৈঠক করছেন কী কী উন্নয়ন হবে সেসব কথা বলছেন। কিন্তু বাকি তিনজন প্রার্থী আসেননি এমনকি তাদের কোনো কর্মীও একদিনের জন্য আসেননি। তাদের কর্মী আছে কি না তা-ও জানি না আমরা। এই দুই দলের যেকোনো একজনকে ভোট দেব যাতে আমাদের জেলার উন্নয়ন হয় শান্তিতে থাকতে পারি।
পৌরসভার হাজিপাড়ার বাসিন্দা আবু তাহের বলেন এ আসনে রাষ্ট্রপতির ভাই মির্জা ফয়সল আমিন এ পর্যন্ত এগিয়ে আছেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে জেলা ও উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন। জামায়াতের প্রার্থীও কম নন তিনিও অনেক জনপ্রিয়। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
সরকারপাড়ার ভোটার শাকিব হোসেন বলেন চারদিকে শুধু ধান আর দাঁড়িপাল্লার স্লোগান। শহরের সব জায়গা ধান ও দাঁড়িপাল্লার ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে গেছে। আর যে তিনজন প্রার্থী সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করছেন তাদের আমরা পৌরসভার ভোটাররা চিনি না। এখন পর্যন্ত ভোট চাইতেও আসেননি। জনগণের কাছে ভোট না চাইলে তারা কীভাবে ভোট পাবেন ভোটারদের কাছে যেতে হবে জেলার কী কী উন্নয়ন করবেন সেগুলো বলতে হবে। তাদের একদিনও আমরা দেখিনি। আমার মনে হয় তারা শুধু শখ করে এমপি নির্বাচন করছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন আমরা দিন-রাত এক করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি এবং জয়ের ব্যাপারে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। দেলাওয়ার হোসেন একজন মজলুম নেতা সৎ মানুষ। জনগণের জন্য যে বরাদ্দ আসবে সেখান থেকে তিনি নিজের পকেট ভরবেন না; বরং জনগণের জন্যই কাজ করবেন। তাই জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ নিশ্চিত।
জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন আমি আশাবাদী আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ সন্ত্রাস চাঁদাবাজি দুর্নীতি লুটপাট ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করবেন। আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হলে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। আধুনিক ঠাকুরগাঁও গড়তে ভোটাররা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন।
তিনি আরও বলেন ভোট একটি আমানত। তাই সন্ত্রাস চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভোট দিলে এর ভোগান্তি সাধারণ মানুষকেই পোহাতে হবে।
আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ঠাকুরগাঁও সদর নবগঠিত রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন:







