ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পৌরসভার ইজারার টাকা আদায়ের নামে সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবির চেষ্টা, অসদাচরণ ও মারতে উদ্যত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোরও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবীনগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের আলীয়াবাদ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান বিপ্লব নবীনগর পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিক একটি মাইক্রোবাসে করে নবীনগর উপজেলার ধরাভাঙ্গা গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে আলীয়াবাদ মোড়ে তাঁদের গাড়ি থামিয়ে পৌরসভার ইজারার টাকা দাবি করেন এক যুবক। সাংবাদিকেরা নিজেদের গাড়িটি জরুরি সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ইজারার আওতামুক্ত বলে জানান।
এ সময় ওই যুবক সাংবাদিকদের মাইক্রোবাস আটকে রেখে যুবদল নেতা বিপ্লবকে ডেকে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিপ্লব ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং ইজারার টাকার নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের মারতে উদ্যত হন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
এ সময় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ইজারাদার জাবেদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের জন্য বিপ্লবকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংসদ সদস্য তাঁকে জানিয়েছেন, ইজারা বাতিল করা হবে।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নবীনগর পৌরসভার প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের গাড়ি থেকে ইজারার টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইজারাদারের লোকজন যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। পাশাপাশি ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য এড. আব্দুল মান্নান বলেন, আমার কোনো ভাতিজা নেই। আমি পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে ইজারা বাতিল করার জন্য বলছি।
সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে টাকা দাবি এবং তাঁদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানালেও এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আরও পড়ুন:







