সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বগুড়ার শাজাহানপুরের প্রবাসী সাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে ফিরেছে। শুক্রবার সকালে ঢাকায় মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে মরদেহবাহী গাড়ি পৌঁছায় শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে সাহেদের বাড়িতে। প্রিয় মানুষটির নিথর দেহ কফিনে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী কাকলীসহ স্বজনেরা। বাবাকে হারিয়ে শোকাহত ১১ ও ৬ বছর বয়সী দুই শিশুসন্তান। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাঁকে।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাহেদ আহম্মেদ আশিক। এক মাসের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। রিয়াদ বিমানবন্দরে পৌঁছে স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, পরবর্তী ফ্লাইটে জেদ্দায় যাবেন। সেখানে পৌঁছে আবার ফোন দেবেন। স্বামীর সেই ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন কাকলী। কিন্তু ফোন আর আসেনি। পরে আসে স্বামীর মৃত্যুসংবাদ।
শুক্রবার সাহেদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। যে মানুষটি পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদেশে গিয়েছিলেন, তাঁর এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাহেদের মৃত্যু হয়। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথেই প্রাণ হারান তিনি। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটির ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী কাকলী।
শুক্রবার সকালে ঢাকায় সাহেদের মরদেহ গ্রহণের সময় পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেয়া হয়। তাঁর বকেয়া বেতন, ভাতা ও চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা দিয়েছে নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই সাপেক্ষে অতিরিক্ত আর্থিক ও বিমা সহায়তা দেয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।
বাদ আসর সাহেদের জানাজায় অংশ নেন বগুড়া ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া সিটি মেয়র এম আর ইসলাম স্বাধীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমানসহ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কান্নাভেজা পরিবেশে তাঁকে শেষ বিদায় জানান সবাই। পরে দাদা-দাদির কবরের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় সাহেদকে।
নিহত সাহেদের নিকটাত্মীয় শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, সাহেদের পরিবারে শোকের এই ভার যেন আরও গভীর। তাঁর বাবা দুই দশকের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে কাজ করছেন। সম্প্রতি ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে গেছেন তাঁর মা। বাবার পথ অনুসরণ করেই প্রায় দুই বছর আগে প্রবাসজীবন শুরু করেছিলেন সাহেদ। এক মাসের ছুটি শেষে আবারও ফিরছিলেন সেই কর্মস্থলে। অথচ সৌদি আরবে থাকা বাবা-মায়ের কাছে আর পৌঁছানো হলো না তাঁর।
সাহেদের মৃত্যুতে দুই শিশুসন্তান হারাল বাবার স্নেহ-ছায়া। আর স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হলেন কাকলী। পরিবারের জন্য স্বপ্ন বুনতে যাওয়া মানুষটির এমন নিথর প্রত্যাবর্তন যেন মুহূর্তেই বদলে দিল তাঁদের জীবনের সব হিসাব।
আরও পড়ুন:







