নেত্রকোনা সদর উপজেলার ময় ঝাউশী এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আটজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় আহত মোঃ জহুর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ভগ্নিপতি মো. মানিক মিয়ার মাধ্যমে নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিটি মো: জহুর আলী পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন। জমিটি নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর পরিবারের বিরোধ চলছিল।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন আব্দুল সাত্তার, আব্দুল জলিল, ইসলাম উদ্দিন, মুসলিম উদ্দিন, কছম উদ্দিন, সোহরাব মিয়া, নয়ন মিয়া, রাকিব মিয়া, মোফাজ্জল ও আবুল হোসেনসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। তাঁরা কোদাল দিয়ে জমির আইল কাটতে শুরু করলে এরশাদ মিয়া বাধা দেন। এ সময় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল সাত্তারের নির্দেশে আব্দুল জলিল দা দিয়ে এরশাদ মিয়ার মাথার ডান পাশে কোপ দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর ডান হাঁটুতে আবারও কোপ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
এতে জহুর আলী, এরশাদ মিয়া, লাল মিয়া, চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া, দুই বোন নারগিছ আক্তার ও বিলকিছ আক্তার, মা বেগম আক্তার এবং ভাতিজি সুমী আক্তার আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা এবং পরবর্তী সময়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও তাঁদের সমর্থকেরা। মানববন্ধনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. মানিক মিয়া, নার্গিস আক্তার, বিলকিছ আক্তার, সুফিয়া আক্তার, মো. শাহীন মিয়া ও ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক নাইম মিয়া। তাঁরা জমিসংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রতন মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন:







