কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টায় বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গত ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন ও মো. সিয়াম রয়েছেন। এ ছাড়া ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকেও অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া এবং পরিকল্পনা ও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা অভিযোগপত্রের মূল নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতিমকে নিয়ে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থানে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতিমের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হলে সে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর ওই এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের ব্যবহৃত মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত তার পরিবার। অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে এগিয়েছে। এখন আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার বিচার সম্পন্ন হবে।
আরও পড়ুন:







