ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গৃহবধূ রত্না রাণী দাশকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁর স্বামী সুশীল দাশকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া (কুড়ের পাড়) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সুশীল দাশ ওই এলাকার মৃত মহরলাল দাশের ছেলে। তিনি এ মামলার এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি।
মামলার এজাহার ও পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রত্না রাণী দাশের সঙ্গে প্রায় নয় বছর আগে সুশীল দাশের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া স্বামী ও অন্যদের প্ররোচনায় রত্নাকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় এক মাস আগে সুশীল তাঁকে আর সংসার করবেন না বলে জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সংসারের কথা চিন্তা করে রত্না ওই বাড়িতেই থাকতেন।
গত ১৭ অক্টোবর রাতে মেয়েকে নিয়ে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান রত্না। পরদিন সকালে তাঁকে বাড়িতে খুঁজে না পেয়ে সুশীল তাঁর বাবার বাড়ির সদস্যদের বিষয়টি জানান এবং নাসিরনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
পরে ২১ অক্টোবর দুপুরে রত্নার ভাই আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে খবর পান, সুশীলের বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি পুকুরে তাঁর মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি রত্নার মরদেহ শনাক্ত করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রত্নার দুই হাত রশি ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল। মরদেহটি বস্তাবন্দি অবস্থায় পাথর দিয়ে চাপা দিয়ে পুকুরের পানিতে রাখা হয়েছিল। তাঁর ভাইয়ের অভিযোগ, সুশীল অন্যদের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে রত্নাকে হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে পুকুরে ফেলে রাখেন।
এ ঘটনায় রত্নার ভাই বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ২২ অক্টোবর নাসিরনগর থানার ২১ নাম্বার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার পর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৯। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং জেলা পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে সুশীল দাশকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার সুশীলকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাসিরনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এসআরবি-৯ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:







