রাঙামাটি থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাঙামাটি শহরের বনরূপা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। আটক দুজন হলেন মাগুরা জেলার জীবলু মোল্লা ও মোস্তফা কামাল। পুলিশ জানায়, বাসের বক্সে রাখা একটি বস্তা থেকে ৩০টি রোলে মোড়ানো গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
কোতয়ালী থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, রাঙামাটি থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে গাঁজা পাচার হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিবের নির্দেশনায় কোতয়ালী থানা-পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ দল বাসটিতে তল্লাশি চালায়। এ সময় গাঁজাভর্তি বস্তাটি উদ্ধার করা হয় এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও পুলিশি রেকর্ড যাচাই করে জীবলু মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টি এবং মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটক দুজন রাঙামাটি থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে তিনবার গাঁজা পরিবহনের কথা জানিয়েছেন। প্রতিবার ১৫ কেজি করে গাঁজা নিয়ে তাঁরা মাগুরার দিকে যেতেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে আরও জানা গেছে, রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার এলাকায় এক অটোরিকশাচালকের মাধ্যমে তাঁরা গাঁজা সংগ্রহ করতেন। পরে বস্তাটি শ্যামলী পরিবহনের বাসে তুলে যাত্রীবেশে নিয়ে যেতেন। এরপর মাগুরা হয়ে কাশিনাথপুর এলাকায় শাহিন ও রোমান নামের দুই ব্যক্তির কাছে গাঁজা হস্তান্তর করা হতো বলে জানা গেছে। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ওসি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, গাঁজার উৎস, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে আন্তজেলা মাদক পাচারচক্রের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন:







