শুক্রবার

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৭ কার্তিক, ১৪৩৩

সরকারি হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বার রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল রিপোর্টের অভিযোগ

মোঃ হামজা শেখ, রাজবাড়ী

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৬

শেয়ার

সরকারি হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বার রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল রিপোর্টের অভিযোগ
ছবি: বাংলা এডিশন

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ‘এ পজিটিভ’ (A+) গ্রুপের রিপোর্ট দেয়া হলেও পরবর্তী সময়ে বালিয়াকান্দি উপজেলার দুটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষায় তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ (O+) পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় উদ্বেগের পাশাপাশি হাসপাতালের পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান উম্মনের বক্তব্য নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় বলেন, ‘এ ধরনের ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক, মানুষের তো ভুল হতেই পারে।’ তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাফিয়া খাতুন নামের ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী সম্প্রতি কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্টে তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘এ পজিটিভ’ উল্লেখ করা হয়। পরে রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে বালিয়াকান্দি উপজেলার দুটি পৃথক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, উভয় প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টেই তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ উল্লেখ করা হয়েছে।

একই ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ নিয়ে সরকারি হাসপাতাল ও দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে ভিন্ন তথ্য পাওয়ায় উদ্বেগে পড়েন ওই নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীর চিকিৎসায় রক্তের গ্রুপের সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে রক্ত সঞ্চালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ধরনের ভুলের ঘটনায় তাঁরা মানসিক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ভুলের কারণ চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব-সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও জনবল সংকটের কারণে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হতে পারে। অভিযুক্ত ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সঠিক কাজ করার চেষ্টা করি। তবে রোগীর চাপ বেশি থাকলে কাজের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটতে পারে।’

অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান উম্মন জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে জানান, বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে হাসপাতালে মাত্র একজন ল্যাবকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ভুল রিপোর্টের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নথি পর্যালোচনা এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জরুরি। জনবল সংকট থাকলেও পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, রিপোর্ট যাচাই এবং রোগীদের সঠিক তথ্য দেয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নথি যাচাই, প্রয়োজন হলে পুনরায় রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জেলাজুড়ে চিকিৎসাসেবার মান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ভুল রিপোর্টের কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।