নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী শবরীতলা ঘাট এলাকায় আত্রাই নদীর পাড় কেটে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। এ কাজে বিএনপি নেতা মো. আখরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে তাঁকে ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ঘাট থেকে কিছুটা দূরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর দক্ষিণ পাশে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে নদীর পাড় কেটে মাটি ও বালু তোলা হচ্ছে। পরে ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকে করে এসব মাটি ও বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোরশেদ আলম নিজেকে ওই এলাকার বালুমহালের ইজারাদার এবং বিএনপি নেতা মো. আখরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে নদীর পাড়কে চর দাবি করে মাটি ও বালু উত্তোলন করছেন। তবে তাঁর ইজারার বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে মাটি ও বালু উত্তোলনের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে মাটি কাটার কাজে যুক্ত এক ব্যক্তি নিজেকে আখরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লোক বলে পরিচয় দেন। নদীর পাড় কেটে মাটি তোলার বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই ঘুমাচ্ছে। আমাদের বলা হয়েছে, তাই কাটছি। আরও কিছু জানতে চাইলে ভাইকে (আখরাজুল) কল দিন। অথবা খোরশেদ আলম ভাইয়ের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন।’
জানতে চাইলে খোরশেদ আলমের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আপনি আখরাজুল ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, নাহলে সরাসরি দেখা করেন।’
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মো. আখরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমি এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। তারা বাঁচার জন্য আমার নাম ব্যবহার করছে। আমি খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। আমি পারতেছিনা। ডিসি স্যার, ইউএনও স্যার ও এসিল্যান্ড স্যারকেও বলা আছে। আমি বলার পড়ে জরিমানাও করেছে প্রশাসন। একদিন ১ লক্ষ, আরেকদিন ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। আমি এগুলোর সাথে জড়িত নয়।’
এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. জেড. এম. নাহিদ হোসেন বলেন, মোবাইল কোর্টে গিয়ে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং ভেকু সরিয়ে নিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিস্তারিত তথ্য হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর পর তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
দিনের বেলায় প্রকাশ্যে নদীর পাড় কেটে মাটি ও বালু উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বালুমহালের ইজারা, উত্তোলনের অনুমোদন এবং জায়গাটি চর নাকি নদীর পাড় এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:







