বৃহস্পতিবার

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ৭ কার্তিক, ১৪৩৩

খুলনায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে নিহত নারীসহ দুজন

জিসান কবিরাজ, খুলনা

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫৫

আপডেট: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৭

শেয়ার

খুলনায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে নিহত নারীসহ দুজন
ছবি সংগৃহীত

খুলনা নগরীতে ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পূর্ব পাশে আনসার উদ্দিন লেনে তুষার (২৭) নামে এক যুবক এবং সন্ধ্যায় লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকায় খুশি বেগম (২৪) নামে এক নারী নিহত হন। প্রাথমিক তদন্তে তুষার হত্যার পেছনে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব এবং খুশি হত্যার পেছনে মাদককে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ড দুটির মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

নগরীর লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া ৭ নম্বর রোডের টাওয়ার গলির সামনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খুশি বেগমকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর আগে থেকে ওত পেতে থাকা চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় খুশিকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জিন্নাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা খোকনের মেয়ে এবং ব্লেড বাবুর স্ত্রী। তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

নিহতের মায়ের অভিযোগ, ঘটনার সময় তিনি ও তার মেয়ে বাড়ির সামনে ছিলেন। তখন মিরাজ নামের এক যুবক খুশির কাছে এসে কেমন আছেন জানতে চান। এর পরপরই তার সামনে মেয়ের মাথায় গুলি করা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মাদককে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পূর্ব পাশে আনসার উদ্দিন লেনে তুষার গুলিতে নিহত হন। পুলিশ জানায়, পূর্ব বানিয়াখামারের লোহার গেট এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে ধস্তাধস্তি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তুষারকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার বুকে গুলি লাগে এবং তিনি মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যান।

ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং কিছু দূর থেকে গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তুষারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুষারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুষার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য ছিলেন। প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার নামে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

তুষারও নগরীর লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা। একই দিনে নগরীর দুটি এলাকায় গুলিতে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক-সংশ্লিষ্ট বিরোধের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ড দুটির মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।